ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে আকস্মিক হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রণাঙ্গনে মিত্র দেশগুলোকে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসছেন। সেই হতাশা কখনো প্রকাশ পাচ্ছে অসন্তোষে, কখনো অভিমানে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তিনি তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে এ সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট দিয়েছেন।
এর মধ্যে একটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি প্রকাশ করেছেন অসন্তোষ।আরেক পোস্টে নির্দিষ্টভাবে ফ্রান্সের প্রতি অভিমান প্রকাশ করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী আকস্মিক ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
ইরান এর পাল্টা আঘাত শুরু করে এবং তারা পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নেয়। শত্রু দেশের জাহাজ আটকাতে তারা কড়াকড়ি আরোপ করলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেয়।ফলে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হরমুজ প্রণালী দ্রুত চালু করতে তাগাদা দিতে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালী চালু করার প্রচেষ্টায় ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিত্রদের আহ্বান জানায়। কিন্তু যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, জাপানসহ কোনো মিত্র দেশই ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এমনকি ইরানে হামলা চালাতে নিজের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দিচ্ছে না স্পেন।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়’ বলে রণাঙ্গনে আসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
মিত্রদের এমন অবস্থানে হতাশ ট্রাম্প তার এক পোস্টে বলেন, “হরমুজ প্রণালীর অবরোধের কারণে যারা জ্বালানি পাচ্ছে না, এমন দেশগুলো—যেমন যুক্তরাজ্য’—তাদের উচিত ‘সাহস সঞ্চয় করা, প্রণালীতে যাওয়া, এবং যা দরকার নিয়ে নেওয়া’।”
তিনি আরও লিখেছেন, “দেশগুলোকে ‘নিজেদের লড়াই নিজেদেরই করা শিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না’।”
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ শেষ।এখন নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করো!’
আরেক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামে বোঝাই বিমানগুলোকে ‘ফ্রান্স তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি’।…ফ্রান্স ‘খুবই অ-সহায়ক আচরণ করেছে’।
‘যুক্তরাষ্ট্র এটা মনে রাখবে!!!’—বলে পোস্টটি শেষ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।