সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা নেতা। যিনি কেবল জন্মগ্রহণ করেননি, বরং ইতিহাস সৃষ্টি করে জাতির চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনার হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্মজীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্ববোধ জাতি সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তন করেন, যা দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে গেথে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে SAARC গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়।
মন্ত্রী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি সব অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।
এর আগে সংস্কৃতিমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।