ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে পরাজয়ের পর সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের বিস্ফোরক মন্তব্য এবং তার জবাবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
শনিবার রাজধানীর পল্লবীতে এক সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল হক সরাসরি আসিফ মাহমুদের সমালোচনা করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জবাব দেন আসিফ।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল হক আসিফ মাহমুদকে ‘বয়সে তরুণ ও অপরিপক্ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার লাগামহীন কথাবার্তার কারণে দেশের ক্রীড়াঙ্গন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০০৩ সালের সাফজয়ী এই গোলরক্ষকের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে হারানো হয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি, জামায়াত এবং সরকারের সরাসরি মদদে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর বিচার পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই বিএনপি নেতা।
আমিনুলের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকে জবাব দেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ আসিফ মাহমুদ। তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা আসিফ দাবি করেন, গত দেড় বছর ক্রীড়া ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন আমিনুলের কাছ থেকে। আসিফ প্রশ্ন তোলেন, ‘ঢাকা-১৬ আসনে তো এনসিপির প্রার্থী ছিল না, তবে কেন কারচুপির দায় আমার ওপর দেখাচ্ছে?’
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে আমিনুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন। আসিফের দাবি, আমিনুল হক প্রথমে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে বাফুফে দখল করতে চেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিসিবিতে নিজের আপন ভাইসহ পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারে গঠিত সার্চ কমিটিতে আমিনুলের পরামর্শে একজনকে রাখা হলেও, সেই ব্যক্তি ফেডারেশন দখল শুরু করলে তাকে অপসারণ করা হয়।
এর জেরে আসিফের নামে মামলাও করানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসিফের অভিযোগ, আমিনুল হক এখন স্পোর্টস মিডিয়াগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। গত দেড় বছরে ক্রীড়াঙ্গন থেকে ‘মাফিয়া’দের হটানোর প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে তার দাবি। বক্তব্যের শেষে আসিফ মাহমুদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দেড় বছর ভদ্রতা ও নীরবতার সাথে কাজ করেছি বলে ভাববেন না যে কথা বলতে পারি না। বাধ্য করবেন না।