৪৮ বছর বয়সেই মারা গেলেন হলিউড তারকা

৪৮ বছর বয়সেই মারা গেলেন হলিউড তারকা

কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মারা গেলেন জনপ্রিয় মার্কিন তারকা জেমস ভ্যান ডার বিক। গতকাল বুধবার ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয় অভিনেতার। তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

‘ডসন্স ক্রিক’ তারকার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রিয় জেমস ডেভিড ভ্যান ডার বিক আজ সকালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি তাঁর শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন সাহস, বিশ্বাস ও অনন্য মর্যাদার সঙ্গে।’

এই পোস্টে আরও জানানো হয়, ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের সময়েও তিনি ছিলেন দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। তাঁর মৃত্যুতে হলিউড ও টেলিভিশন দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার, সন্তান ও ব্যক্তিগত জীবন
জেমস ভ্যান ডার বিক স্ত্রী ও ছয় সন্তান রেখে গেছেন। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে জানান, তিনি কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সময় থেকেই চিকিৎসা ও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই অভিনেতা।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টটি শেয়ার করেন তাঁর স্ত্রী কিম্বারলি ভ্যান ডার বিক। পোস্টে একটি ছবি যুক্ত ছিল, যেখানে জেমসকে সাদা পোশাক ও কার্ডিগান পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা ভক্তদের কাছে আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘তাঁর ইচ্ছা, মানবতার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আরও অনেক কিছু বলার আছে। সেই দিনগুলো আসবে। আপাতত আমরা আমাদের প্রিয় স্বামী, বাবা, ছেলে, ভাই ও বন্ধুকে হারানোর শোক পালনের জন্য শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিগত সময় চাই।’

‘ডসন্স ক্রিক’ এবং তারকাখ্যাতির শিখরে
জেমস ভ্যান ডার বিক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত জনপ্রিয় টিন ড্রামা সিরিজ ‘ডসন্স ক্রিক’–এ প্রধান চরিত্র ডসন লিরির ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে। সিরিজটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ম্যাসাচুসেটস শহরে বসবাসরত একদল কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্ব, প্রেম, স্বপ্ন ও জীবনের জটিলতা নিয়ে তৈরি এই সিরিজ টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক টিন ড্রামা হিসেবে বিবেচিত হয়। ডসনের চরিত্রে ভ্যান ডার বিকের অভিনয় তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়।

সিনেমায় চেষ্টা, কিন্তু টিভির ছায়া পেরোনো কঠিন
টেলিভিশনের বাইরে সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন জেমস ভ্যান ডার বিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ভার্সিটি ব্লুজ’, ‘দ্য রুলস অব অ্যাট্রাকশন’।  তবে চলচ্চিত্রে কাজ করলেও তিনি কখনোই পুরোপুরি সিনেমা–দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ‘ডসন্স ক্রিক’-এর সাফল্য এতটাই বড় ছিল যে সেই সিরিজের ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন পরিচয়ে নিজেকে গড়ে তোলা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এ বিষয়কে কখনো হতাশার চোখে দেখেননি ভ্যান ডার বিক; বরং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি ছিলেন গর্বিত।
২০১১ সালে পেজ সিক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান ডার বিক বলেছিলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমি আমার অতীতকে গর্বের সঙ্গেই বহন করেছি। সেটাকে ঝেড়ে ফেলার মতো কিছু হিসেবে দেখিনি।’

হলিউডের প্রতিক্রিয়া ও ভক্তদের শোক
জেমস ভ্যান ডার বিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, শিল্পী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন। অনেকেই ‘ডসন্স ক্রিক’–এর স্মৃতি, ডসনের চরিত্র এবং ভ্যান ডার বিকের অভিনয় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS