‘সাম্প্রতিক সহিংসতা ছিল সুপরিকল্পিত মার্কিন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র’

‘সাম্প্রতিক সহিংসতা ছিল সুপরিকল্পিত মার্কিন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা ছিল একটি সুপরিকল্পিত মার্কিন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র, যার মূল লক্ষ্য হলো- ইরানকে গ্রাস করা এবং দেশটির ওপর আবারও রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য কায়েম করা।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়্যতপ্রাপ্তির বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার হাজারো মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, ইরানি জাতির ওপর আরোপিত প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একজন অপরাধী হিসেবে মনে করি।

১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণসমাবেশ-এর প্রশংসা করে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে ফিতনার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে এবং এটিকে ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফিতনাকারীদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হলেও বাস্তবতা বদলায় না।

বাস্তবতা হলো- ইরানি জাতি নিজের চোখে সত্য দেখেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের ষড়যন্ত্রের বিশেষত্ব ছিল এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে সহিংসতাকারীদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং পর্দার আড়ালে আমেরিকা ও ইসরায়েল তাদের অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, সম্পদ এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অসহনীয়।এ কারণেই তারা দেশটিকে দুর্বল করতে চায়।

ফিতনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মাঠপর্যায়ে দুই ধরনের লোক সক্রিয় ছিল। একদল ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার প্রশিক্ষিত ও অর্থভোগী সন্ত্রাসী, যারা অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতায় সরাসরি জড়িত ছিল। অন্য দলটি ছিল বিভ্রান্ত তরুণ-যুবক, যারা উসকানিতে পড়ে সহিংসতায় অংশ নেয়।

তিনি জানান, এই সহিংসতায় ২৫০টির বেশি মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা কেন্দ্র, ব্যাংক ও জনসাধারণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ফিতনাকারীরা বিদেশ থেকে আনা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছে-যার মধ্যে রয়েছে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা ও শিশু হত্যার মতো অপরাধ।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আমেরিকার অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে সর্বোচ্চ নেতা জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করার আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS