News Headline :
আসন্ন সংসদে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি

আসন্ন সংসদে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আসন্ন জাতীয় সংসদে অনুমোদন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সব ধরনের তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন তরুণ চিকিৎসকরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হলরুমে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদারে তরুণ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততা: ২০২৬ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আসন্ন সংসদে অনুমোদন ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের করনীতি সংস্কার’ শীর্ষক এক কর্মশালা থেকে এ দাবি জানানো হয়।

কর্মশালায় ডা. অরুনা সরকারের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। তিনি তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণ চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একইসঙ্গে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অকালে প্রাণ হারায় (টোব্যাকো এটলাস)। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করেছে।তবে এর বাস্তব সুফল পেতে হলে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদে দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি আইন আকারে অনুমোদন করা জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, তামাক ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। আমরা হাসপাতালে প্রতিদিন এমন অসংখ্য রোগী দেখি, যারা তামাক ব্যবহারের কারণে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে যদি তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ করা হয়, তবে পণ্যের দাম বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ ও তরুণরা তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে।

এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয় কমবে।

অনুষ্ঠানে তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা তুন-নেসা মালিক। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা সমাজের আস্থার প্রতীক। তরুণ চিকিৎসকদের এই যৌক্তিক দাবি নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি তামাকবিরোধী আন্দোলনে তরুণ চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ চিকিৎসকরা বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলেই সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। অধ্যাদেশটি আসন্ন সংসদে দ্রুত অনুমোদন এবং সব তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS