News Headline :
বড় জয়ের পর তহুরা-মনিকাকে গোল উৎসর্গ করলেন সামসুন্নাহার

বড় জয়ের পর তহুরা-মনিকাকে গোল উৎসর্গ করলেন সামসুন্নাহার

নারী ফুটবল লিগে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। দিনের চতুর্থ ম্যাচে সিরাজ স্মৃতি সংসদের বিপক্ষে মাঠে নেমে দাপুটে ফুটবলে ৯-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ফরাশগঞ্জ। ম্যাচে একাই চার গোল করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন সামসুন্নাহার জুনিয়র। এই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন দুই সতীর্থ তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা।

তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে নিজের ম্যাচ সেরার পুরস্কার ও গোলগুলো তাদের উৎসর্গ করেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে সামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন, সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আজ আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। পরপর তিনটা ম্যাচ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম, সেটা করতে পারছি।সামনে ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’

এই ম্যাচে চার গোলসহ লিগে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৪-তে পৌঁছালেও ব্যক্তিগত অর্জনকে বড় করে দেখছেন না সামসুন্নাহার জুনিয়র। তিনি বলেন, আসলে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই যে এত গোল করতে হবে বা এমন কিছু। আমি শুধু আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি।

ম্যাচে সুযোগ আসলে অবশ্যই কাজে লাগাবো। বাকিটা আল্লাহর হাতে।’

দলের বেঞ্চ শক্তি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা মাঠের বাইরে থাকায় ফরাশগঞ্জের একাদশে একাধিক পরিবর্তন আসে। এ প্রসঙ্গে সামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন, আজকের ম্যাচটা আমাদের জন্য বেঞ্চ পরীক্ষা করার একটা দিন ছিল।অনেক নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে। অভিজ্ঞতা কম থাকলেও তারা ওদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় তারা ভালোই করেছে। আজকের ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা আমি তহুরা আর মনিকার জন্য উৎসর্গ করছি।’

ফরাশগঞ্জের হয়ে এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মারিয়া মান্ডা। একটি করে গোল করেন নেপালের ফুটবলার পুজা রানা এবং সামসুন্নাহার সিনিয়র। তিন ম্যাচে টানা জয়ের মাধ্যমে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

দিনের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আনসার ভিডিপি। আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস অ্যাকাডেমিকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় তারা। ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন উমেহ্লা মারমা। একাই পাঁচ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। আনসারের অন্য দুটি গোল আসে মামনি চাকমা ও সুইচিং মারমার পা থেকে। নাসরিন স্পোর্টস অ্যাকাডেমির হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন পপি রানী।

পরের ম্যাচে গোল উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ আর্মি দল। জামালপুর কাচারীপাড়া একাদশের বিপক্ষে তারা ১৮-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। ম্যাচে একাই ছয় গোল করেন উন্নতি খাতুন। মোসাম্মত সুলতানা করেন চার গোল। তনিমা বিশ্বাস হ্যাটট্রিক করেন এবং অর্পিতা বিশ্বাসের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি করে গোল করেন। বাকি একটি গোল আসে হালিমার পা থেকে। একতরফা এই ম্যাচে আর্মি দলের আধিপত্য শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।

দিনের আরেক ম্যাচে সদ্য পুস্করনী ক্লাব শক্তিশালী ফুটবলে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায়। ম্যাচে জান্নাতুল ফেরদৌস ঝিনুক চার গোল করে ম্যাচের নায়িকা হন। অন্য তিনটি গোল করেন শিলা আক্তার, অনন্যা খানম এবং সিনহা আয়াত।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS