বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। ত্বকের গঠন ও দৃঢ়তা ধরে রাখতে কোলাজেন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিন।শরীর নিজেই কোলাজেন তৈরি করে। তবে বয়স, অতিরিক্ত রোদ, অনিয়মিত জীবনযাপন ও পুষ্টির ঘাটতির মতো নানা কারণে এর উৎপাদন কমতে পারে।
ত্বকের যত্নে তাই প্রসাধনীর পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কোলাজেন সরাসরি পানীয় থেকে পাওয়া যায় না, তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কিছু উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি পানীয় রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।
কুমড়োর বীজ ও নারকেলের স্মুদি
কুমড়োর বীজে রয়েছে জিঙ্ক, আর সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন ই-এর ভালো উৎস।অন্যদিকে খেজুরে থাকে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ। এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় পুষ্টিকর একটি পানীয়।
এক কাপ পানির সঙ্গে এক টেবিল চামচ কুমড়োর বীজ, এক টেবিল চামচ কোরানো নারকেল, দুটি খেজুর ও এক টেবিল চামচ সূর্যমুখীর বীজ ব্লেন্ড করে নিন। চাইলে বরফ দিয়ে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন।
লেবু-কমলার সতেজ পানীয়
ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল দিয়ে তৈরি পানীয়ও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
এ জন্য একটি কমলালেবুর কোয়া, আধা চা-চামচ লেবুর রস, আধা চা-চামচ মধু ও এক চা-চামচ আদাবাটা নিন। উপকরণগুলো ভালোভাবে ব্লেন্ড করে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে বরফ দিয়ে পান করতে পারেন।
বিট-বেদানার জুস
বিট, বেদানা ও শসা, তিনটি উপাদানই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এগুলো দিয়ে তৈরি পানীয় হতে পারে সতেজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি বিকল্প।
এক কাপ বিটের টুকরো, এক কাপ বেদানা ও এক কাপ শসা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে ছেঁকে এতে কয়েকটি পুদিনাপাতা যোগ করুন। পরিবেশনের আগে সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
শুধু পানীয়েই কি বলিরেখা ঠেকানো সম্ভব?
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য শুধু কোনো একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত সূর্যের আলো থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল-সবজি নিয়মিত খাবারের অংশ করা যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, এসব পানীয়কে ‘কোলাজেন বাড়ানোর নিশ্চিত উপায়’ হিসেবে না দেখে পুষ্টিকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো। ত্বকের সমস্যা বা অ্যালার্জি থাকলে নতুন কোনো উপাদান নিয়মিত খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।