বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে ক্রিকেট কূটনীতিকে ফের চাঙ্গা করার কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভারতীয় হাইকমিশন ও উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর মাঝে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো মাঠে গড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে ১৩টি খেলাধুলার অ্যাডহক কমিটির শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত নীতি-নির্ধারণী এক সভায় সাম্প্রতিক ক্রিকেট টানাপোড়েন এবং দেশের ক্রীড়া প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সরকারপ্রধানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
মাঠের খেলাকে রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে রাখার নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে সভায় বিশ্বমঞ্চে জাতীয় ক্রিকেট দলের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ক্রিকেটাররা দেশে ফেরা মাত্রই রাজকীয় আয়োজনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে বেশ কিছু বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।ইতোমধ্যে ২৭টি ফেডারেশনের নেতৃত্বে নতুন রক্ত সঞ্চালন করে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা হয়েছে এবং বাকি খেলাগুলোতেও শিগগিরই নতুন মুখের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
এদিকে সামনে থাকা এশিয়ান গেমসকে ঘিরে পুরোনো ও নতুন কমিটির যে প্রশাসনিক জটিলতা এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডজনিত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ক্যারম, জিমন্যাস্টিক্স, কারাতে, জুডো, ভারোত্তোলন ও রাগবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের সরাসরি উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমন্বয় বৈঠকটি ঝিমিয়ে পড়া দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।