কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের অবসান হলেও দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি।ফলে কারিগরি অর্থে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
এর মধ্যেই রোববার ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক জোটের ভিত্তি ১৯৫৩ সালে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি।এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে অপর দেশ তাকে সহযোগিতা করবে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও সিউলের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।ট্রাম্পের অভিযোগ, দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যয় বহনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না। তার দাবি, এসব মহড়ার বেশির ভাগ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়।
দুই দেশের সামরিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা
দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোরিয়া বাহিনীর অধীনে দায়িত্ব পালন করে। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় এই সেনাদের উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
যৌথ সামরিক নেতৃত্ব
যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য দুই দেশের একটি যৌথ কমান্ড কাঠামো রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনী সমন্বিতভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
নিয়মিত বড় সামরিক মহড়া
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া নিয়মিত বড় পরিসরে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। এর মধ্যে উলচি ফ্রিডম শিল্ড অন্যতম। এসব মহড়ায় স্থলবাহিনী, যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনী এবং সাইবার কার্যক্রমের সদস্যরা অংশ নেন। মূলত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এসব মহড়া পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য মার্কিন পরমাণু ছাতা
দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ পরিসর ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে পরমাণু অস্ত্রও রয়েছে। এই নীতিকে বর্ধিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বলা হয়, যা মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত।
অস্ত্র ব্যবস্থায় পারস্পরিক সমন্বয়
দক্ষিণ কোরিয়া এমন সব অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি ক্রয় ও তৈরি করে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা আরও বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই সামরিক জোট কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে ট্রাম্পের মহড়া কমানোর নির্দেশ এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই জোটের সামরিক কর্মকৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা