ভারতের উদীয়মান রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার মানুষের মতামত ও সমস্যা জানার লক্ষ্যে ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ নামে নতুন এ কর্মসূচি শুরু করছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ সময় দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা উপস্থিত ছিলেন।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো সরাসরি জানার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগ ও পরামর্শ সংগ্রহ করবে সিজেপি।এসব মতামতের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নীতিনির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
দীপকে বলেন, তাদের প্রচারণায় শিক্ষাখাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।তার দাবি, স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বহু পরিবারের পক্ষে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং অসন্তোষ বাড়ছে।
দীপকের ভাষ্য, সকালে মানুষ এক দলকে ভোট দেয়, সন্ধ্যায় সেই জনপ্রতিনিধি অন্য দলে চলে যান। কোথাও ভোট এক সরকারের পক্ষে পড়ে, কিন্তু পরে অন্য সরকার গঠিত হয়। তা না হলে ইডি-সিবিআই ব্যবহার করে দল ভাঙা হয়। এভাবে চলতে থাকলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহিতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, আগে ভোটার সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের মামলার শুনানি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলেও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে দ্রুত, এমনকি মধ্যরাতেও শুনানি হয়।
এদিকে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে সিজেপি। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, দলের একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই রাঁচি সফর করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতারাও সেখানে যাবেন।
দেশব্যাপী প্রচারাভিযান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ দীপকে বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নিজস্ব কর্মসূচি ও নীতিগত অবস্থান থাকা জরুরি। তবে জনগণের মতামতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষই শিক্ষা ইস্যুর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। সে কারণেই আরও বিস্তৃত জনপরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। দলের দাবি, ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর ওই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
সূত্র: বিবিসি