আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার চুক্তি আগামী আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের এভিয়েশন খাত সম্পর্কে সাংবাদিকদের কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চলতি বছরই এন্টি-ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে।তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ফ্লাইট চার্জ বাবদ রাজস্ব আয় বছরে প্রায় ৮ শতাংশ বাড়বে।
এভিয়েশন খাতে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি অত্যন্ত কারিগরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত। তাই সঠিক তথ্য, কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা ছাড়া এ বিষয়ে নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অপারেশন, নিরাপত্তা ও এভিয়েশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন কর্মশালা আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
কর্মশালায় বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড অপারেশন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড ও সুপারিশকৃত কার্যপদ্ধতি (এসএআরপি) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান বলেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে এমবারকেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফি মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি জমজমের পানি বিতরণ, নামাজের পৃথক স্থান, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওয়াশরুম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ট্রলি, চেয়ার, কিউ বেল্ট, মশা নিধন এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ে উপস্থাপনা করেন বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডোর মো. নূর-ই-আলম। তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট, রেডিও ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), এয়ারফিল্ড পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। বিভিন্ন পর্বে তারা বিমানবন্দর পরিচালনা, বিমান নিরাপত্তা, এয়ার ট্রাফিক অপারেশন, যাত্রীসেবা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন। বেবিচকের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এসময় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।