ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ওয়াশরুমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ম্যানার শেখানোর নামে গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়। এ ঘটনায় তারা দুজনই প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত বলে দাবি করছেন ছাত্রদলের নেতারা। ডাকসু নির্বাচনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দিয়েছেন।শিবিরের নেতাদের সঙ্গে গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন।
অবশ্য ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ছাত্রশিবিরের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তিনি নির্বাচনে সাদিক কায়েমের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাদিক কায়েমের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। ছাত্রশিবিরের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক আশিক বিল্লাহ বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন মারুফও ফেসবুকে একই তথ্য লিখেছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আহমেদ শাহরিয়ার নীড় বাংলানিউজকে জানান, রোববার রাত ১২টা নাগাদ তিনি ওয়াশরুমে যেতে চাইলে মাহফুজ তাকে থামিয়ে পাশের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। এ সময় তিনি পাশের ওয়াশরুম বন্ধ পেয়ে পুনরায় ওয়াশরুমে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেন মাহফুজ। এক পর্যায়ের মাহফুজ তাকে ধাক্কা মারেন। তাকে মারধর করেন এবং হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে ধরেন বলেও জানান নীড়। হাতে আঘাত পাওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এই শিক্ষার্থী।
নীড় আরও জানান, মাহফুজ তাকে গালাগাল করে বলেন, ‘তুই আজকে সারা রাত মুতবি না। এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি। মূত্রথলি ফেটে গেলেও না। আমি তোর সিনিয়র। সেশনে তোর বড়। আমি তোর বাপ। তোর ম্যানারে সমস্যা আছে। আমার রুমে আসবি। আমি তোর গেস্টরুম নেব।’
এ বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তিনি হলের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে নিজের আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ লিখেছেন, ‘আমি হলগেট দিয়ে প্রবেশের সময় ৭-৮ জন মেয়ে ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য হলে প্রবেশ করে। আমি ফ্লোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখি আরেকজন সেখানে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আমি তাকে অনুরোধ করি যে, এখানে গেস্টরা আছে, খেলা দেখতে এসেছে। উনারা বের হলে যাবেন। কিন্তু ছেলেটি বলে সে এখানেই যাবে। এটা গেস্টদের সময় না।’
মাহফুজ আরও লিখেছেন, ‘ছেলেটা এক পর্যায়ে আমাকেও ধমক মারে। আমি তাকে বোঝানোর জন্য বলি, একটু পরিস্থিতি বুঝুন। এত মানুষ বাহিরে। তারা শেষ করেই চলে যাবে। এটা বলার সাথে সাথে ছেলেটা আমাকে বলে গায়ে হাত না দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে কথা বল। আমি তখন তাকে সেশন জিজ্ঞেস করি, তাকে ধমক দেই এবং গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলি আমি তোমার বড়। তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছ কেন? তখন ও আমাকে মারার হুমকি দেয়। ও আমাকে মারতে উদ্ধত হলে স্টাফরা আমাকে চলে যেতে বলেন। আমি চলে আসি।’
নীড় দাবি করেছেন, ওয়াশরুমে নারীরা ছিল, এটি তাকে বলা হয়নি। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমারও তো মা-বোন আছে।’
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী রেজা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি করেছি। তারা ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।