হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রটোকল বা নিয়মাবলী মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে ইরান।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামক একটি নথি প্রকাশ করেছে ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ)।
এই নথিটি সিএনএন দেখেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সিএনএন জানায়, ওই নথিতে প্রণালীটি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সকল জাহাজের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম ও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
মূলত মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করতে চাইছে তেহরান।
নতুন প্রটোকল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান বিরোধী অভিযান শুরুর আগে এই প্রণালীটি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ছিল।তবে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হুমকি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তাতে হামলা চালানো হবে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ৪০টিরও বেশি প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত একটি ফর্ম ইমেইলের মাধ্যমে পিজিএসএ-র কাছে পাঠাতে হবে।এতে জাহাজের নাম, পরিচয় নম্বর, মালিক ও ক্রুদের জাতীয়তা এবং পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদানের জন্য জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই সব পরিণতির দায়ভার নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, একটি ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশলের’ অধীনে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যেখানে বিদেশিদের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার বিষয়টিকে একটি শক্তিশালী ‘লিভারেজ’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অর্থ আদায় ও নিষেধাজ্ঞা
সিএনএন জানায়, প্রতিবেদন অনুসারে- ইরান এই প্রণালীকে তাদের আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি জাহাজ থেকে পারাপারের জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধরনের অর্থ প্রদান করলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রটোকলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের কর্তৃত্বকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র: সিএনএন