ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। দিনভর বোলিং করে তারা নিতে পেরেছে মাত্র চারটি উইকেট।দিনশেষে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ৩০১ রান। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস এখনও ক্রিজে আছেন।শনিবার দ্বিতীয় দিনে আরও চাপের মধ্যে পড়তে হতে পারে সফরকারীদের। যদিও নতুন বল হাতে থাকায় বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করার স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান।
শুক্রবার প্রথম দিনে ৮৫ ওভার খেলা হয়েছে। ৮০ ওভার শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় পাকিস্তান।যদিও শেষ ৪.৪ ওভারে বাংলাদেশের কোনো উইকেট তুলতে পারেনি তারা। তবে শনিবার সকালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে মুখিয়ে আছে দলটি।
আব্বাস বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটি হতাশার দিন ছিল। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিছু সময়ে ভালো বোলিং করতে পারিনি, আবার কিছু সময়ে খুব ভালো বোলিং করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। সারাদিনই ব্যাটসম্যানদের অনেক “প্লে অ্যান্ড মিস” ছিল। আমার মনে হয় এটি খুব ভালো ক্রিকেট উইকেট। এখন নতুন বল আমাদের হাতে আছে, তাই কাল (শনিবার) আমরা দ্রুত উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করব এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের ইনিংস শেষ করতে চাই।’
পুরো দিনে ওপেনিং জুটি ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যাটারই পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ সামলেছেন দারুণভাবে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পেয়েছেন সেঞ্চুরি। মুমিনুল হক ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন। লিটন-মুশফিক ২৫ রানের জুটিতে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের দৃঢ় ব্যাটিং পাকিস্তানের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ নিয়ে আব্বাস বলেন, ‘আমরা সবকিছুই চেষ্টা করছি। তবে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে, তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আমি যখন বোলিং করছিলাম, কয়েকটি বলে ব্যাটসম্যান পরাস্ত হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা দারুণ খেলেছে।’
সবুজ উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। কিন্তু বোলিং নিয়েও প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিতে পারেনি তারা। আব্বাসের দাবি, বাংলাদেশও টসে জিতলে আগে বোলিংই নিত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলিং ভালোই ছিল। নতুন বলে কিছুটা মুভমেন্টও ছিল। সার্বিকভাবে অনেক “প্লে অ্যান্ড মিস” হয়েছে। ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। প্রতিপক্ষও ভালো খেলেছে। আমার মনে হয় এই উইকেটে টস জিতলে যে কেউ আগে বোলিংই নিত। ক্রিকেট এমনই—কখনো ভাগ্য আপনার সঙ্গে থাকে, কখনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে। ওপরে ঘাস থাকলেও নিচটা বেশ শুকনো এবং কিছু জায়গায় ফাটলও আছে।’
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপও খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। অভিজ্ঞ বাবর আজম ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়।
বাবর না থাকা কিংবা তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং—এমন প্রশ্নে আব্বাস বলেন, ‘চারটি উইকেট পড়েছে। তবে নতুন বল এখন আমাদের হাতে। কাল (শনিবার) যত দ্রুত সম্ভব তাদের অলআউট করার চেষ্টা করব, যাতে স্কোর সীমিত রাখা যায়। এরপর আমরা বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য রাখব। দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটারই ভালো খেলোয়াড়। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করেই দলে এসেছে। বাবরের অনুপস্থিতি অবশ্যই ক্ষতি। তবে অন্য খেলোয়াড়রা ভালো ফর্মে আছে। আশা করি আমরা ভালো রান করতে পারব।’