একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। তার নাম রিহাদ হাসান (২৩)।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন ইউনিটের ওই দল ঝিনাইদহ সদর থানাধীন নৃসিংহপুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রিহাদ হাসান ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা।তার কাছ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় মোবাইলটিতে প্রায় ৪০টির মতো অবৈধ অনলাইন জুয়ার অ্যাপের সক্রিয়তা পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান জানান, ভুক্তভোগী ঢাকা মহানগর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা তদন্তে নামে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
তদন্তে জানা যায়, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে রিহাদ ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতো।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতারকরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মস্থলে থাকাকালে ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দেয়। বার্তায় জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। যোগাযোগের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে চাপের মুখে ওই কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান নম্বর দুটিতে। পরে সরাসরি ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছিল এবং এমন কোনো নির্দেশ তিনি দেননি।
সিআইডির তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তদন্তে প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে রিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তির কথাও জানিয়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তিনি জুয়ায় ব্যয় করতেন বলেও স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের রয়েছে জানিয়ে জসীম উদ্দীন খান বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।