১৫ বছরে সাংবাদিকতায় তৈরি হওয়া প্রবণতা নিয়ে কাজ করতে হবে: জাহেদ উর রহমান

১৫ বছরে সাংবাদিকতায় তৈরি হওয়া প্রবণতা নিয়ে কাজ করতে হবে: জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা যেভাবে চলেছে, যারা কাজ করেছে, যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২ মে) বিকেলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য: কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এ সেমিনারের আয়োজন করে পিআইবি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে এবং প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন, দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক ও ফ্যাক্টচেক বিশেষজ্ঞ কদরুদ্দীন শিশির, দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, সাংবাদিক ও শিক্ষক নাজিয়া আফরিন মনামী, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিনহাজ আমান, আজহার উদ্দিন অনিক প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহেদ উর রহমান বলেন, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো এটা যে একটা অপরাধ, এটা অনেক সময় আমরা বুঝিও না।কোনো না কোনো ফর্মে লিগ্যাল অ্যাকশন ছাড়া এটা রোধ করা সম্ভব না। তবে বলছি না কঠিন কিছু করতে হবে।গালি দেওয়া ভিন্ন ব্যাপার। আমি গালি সহ্য করছি, সেটা ভিন্ন বিষয়। সেটা কিন্তু ফেক নিউজ না। সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়াব কি দাঁড়াব না সেটা ডিফারেন্ট ডিবেট। ফেক নিউজ এজ এ ক্রাইম। আমার কাছে মনে হয় সমাজে সরকারকে এ বার্তাটা দিতে হবে। এটার জন্য আমাদের এক ধরনের প্রস্তুতিও আছে।

banglanews24

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সমালোচনা করা যাবে আসল বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশ মানুষের সংখ্যার দিক থেকে একটা জটিল দেশ। এমনিতেই এটা চালানো খুব কঠিন।

সুসান ভাইজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা উল্লেখ করেন। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে মিডিয়া সাক্ষরতা শিক্ষা প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা, গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলেও মত দেন সুসান ভাইজ।

অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, ডিসইনফরমেশন শুধু বিজনেসের কারণে হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ডিসইনফরমেশন, ফেক নিউজ কিংবা রিউমার এগুলো অত্যন্ত পলিটিকাল টুল। সবচেয়ে বড় ভিকটিম পলিটিকাল ফিগাররা। পলিটিকাল ফিগাররা অন্যজনকে ভিকটিম করছে, এটাও সত্য। এই পলিটিকাল ফিগারদের ভিকটিম করছে অন্য পলিটিকাল ফিগাররা। শিকারি যখন কাউকে শিকার করতে পারছেন না, তখন তাকে শিকার হয়।

কদরুদ্দিন শিশির বলেন, ফেক নিউজ ডিফেন্ড করার কিছু নেই। অনেকেই এটা মানতে চান না। আমরা প্রফেশনালি নানান ধরনের ফেক নিউজ নিয়ে কাজ করি। অনেক মিডিয়ায় ফেক নিউজ আসে, সেগুলো আমরা ধরিয়ে দেই। এমন অবস্থা হয় যে— আমরা যে ফেক নিউজ ধরে দিই সেটা ডিলিটও করা হয় না। ডিলিট করলেও সেটা নিয়ে কোন ধরনের ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা হয় না।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা কীভাবে গুজব ছড়ানো হয়, তার ক্ষেত্রে সরকার ও জনগণের করণীয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়। মিডিয়া লিটারেসিতে জনগণকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো তুলে ধরার বিষয়ও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করে তাদের একধরনের ‘ডিজিটাল দাসত্বে’ আবদ্ধ করছে, যা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। দেশের নিম্ন শিক্ষার হার ও সীমিত সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির কারণে সাধারণ মানুষ বিপুল তথ্যের ভিড়ে সত্য ও মিথ্যা পৃথক করতে হিমশিম খাচ্ছে। তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে মানুষ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে তথ্য গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে, সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের বদলে নিজেদের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকেই গ্রহণ করছে। এর প্রভাব পড়ছে গণমাধ্যম শিল্পেও– বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে পাঠক-দর্শক সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে পুনর্গঠন ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য জ্ঞানভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

সেমিনারে অধ্যাপক আ-আল মামুন ও কাজী মামুন হায়দারের লিখিত পিআইবির প্রকাশনা ‘বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS