শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিষয় অল্প, পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায়-শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায়-হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।এই তোমাদের সাথে আমার কনট্রাক্ট। কিন্তু তোমাদের সবাইকে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে।

তিনি বলেন, তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের এক একজন অ্যাম্বাসেডর হবে। তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে।কারণ ‘ইউ আর দ্য ফিউচার।’ কারণ তোমাদের থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট ও নেতৃত্ব তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ।তোমরাই আগামীতে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের এই মেগা ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

তারেক রহমান বলেন, নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের আজকের চিফ গেস্ট তোমরা। আজ আমার বক্তৃতা দিতে ইচ্ছে করছে না। বক্তৃতা আমরা শুনে ফেলেছি। মাঠের বন্ধুরা যারা কসরত দেখিয়েছে, তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হাততালি দিতে বলেন তিনি।

নতুনকুঁড়ি অনুষ্ঠান চালুর আইডিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে সাড়ে চার বছর আগের কথা, স্পোর্টস মিনিস্টার আমিনুল লন্ডনে আমার সাথে দেখা করতে যায়। ওকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছি। আমার সাথে তোমাদের আন্টি (ডা. জুবাইদা রহমান) গিয়েছে, এখানে ফয়সল আছে, সেও আমাদের সাথে ছিল। রেস্টুরেন্টে বসে আমরা গল্প করছি, কথা বলছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমরা স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম যে, খেলা নিয়ে আমরা কী করব। আলাপ করতে করতে একপর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম, আমরা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করব।

উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে আজ তোমাদের অনুষ্ঠান। তোমরা যারা এখানে বসে আছো, তোমাদের সাথে সব বাংলাদেশের জেলাগুলো কানেক্টেড। তাই গোটা বাংলাদেশে আজকে বলছি, এটা তোমাদের অনুষ্ঠান। ইনশাআল্লাহ তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যেক দেশে দূতাবাস আছে। তারা কিন্তু আমাদের দেশকে বিভিন্ন দেশের সামনে তুলে ধরছে। আমি চাই, তোমরা যারা বসে আছো, প্রত্যেকে বাংলাদেশের এক এক জন ‘অ্যাম্বাসেডর’ হবে।

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদেরকে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে, কারণ ইউ আর দ্য ফিউচার, তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। বড় বড় ডাক্তার, লয়ার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট তৈরি হবে। তোমাদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরি হবে, এই দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। তবে তার আগে থেকেই স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

বিকেল পৌনে ৪টায় জাতীয় সংগীতের ইনস্ট্রুমেন্টাল সুর বাজানো হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ গ্যালারিতে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শিক্ষার্থীদের পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অদেখা প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, মেধাবী শিশু-কিশোরদের বিকাশে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘নতুন কুঁড়ি’ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘসময় বন্ধ থাকার পর সেই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটিকেই এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে ক্রীড়াঙ্গনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে ফিরিয়ে আনা হলো। এ আয়োজনের মাধ্যমে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট– এই ৮টি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পুরো প্রতিযোগিতাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS