ওপেক ছাড়ছে আরব আমিরাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার শঙ্কা

ওপেক ছাড়ছে আরব আমিরাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার শঙ্কা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন (ওপেক) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই এই জোট কাজ করে আসছিল।ইউএইর এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জাজিরা জানিয়েছে, ইউএইর এই পদক্ষেপ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশেষ করে জোটের অনানুষ্ঠানিক নেতা সৌদি আরবের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এলো, যখন ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানিও ইতিমধ্যে নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার ঘটনায় এই রুটে ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক অসন্তোষও ভূমিকা রেখেছে। ইরানের হামলার মুখে পড়লেও অন্য আরব দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নিরাপত্তা সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করছে দেশটি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ইউএই।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অন্যতম প্রভাবশালী জোট, যা বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।

ইউএইর ঘোষণার আগে জোটটির সদস্য ছিল ১২টি দেশ। তবে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা হয়েছে ১১। এখন ওপেকের সদস্য দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, আলজেরিয়া, ইরান, লিবিয়া, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং ইকুইটোরিয়াল গিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলা ওপেক ত্যাগ করেছিল।

অন্যদিকে, ওপেক প্লাস জোটে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাশিয়া, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া জোটের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো, ওমান,আজারবাইজান, মালয়েশিয়া,বাহরাইন, ব্রুনাই, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং  কাজাখস্তান।

ইউএইর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনই পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS