চলন্ত প্রিজনভ্যানে হঠাৎ হার্ড ব্রেক করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর বন্দির ওপর পড়ে যান কারাবন্দি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, যতটুকু জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে পলকসহ চারজন বন্দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় পোস্তগোলা ব্রিজের ঢালে প্রিজনভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা পলক ভারসাম্য হারিয়ে অপর বন্দি এ. বি. এম. ফজলে করিম চৌধুরীর ওপর পড়ে যান।পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের আবার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে নেওয়া হয়।
জান্নাত-উল-ফরহাদ আরও জানান, ঘটনার পর পলক ঘাড়ে ব্যথার কথা জানালে কারা চিকিৎসক তাকে এমআরআই পরীক্ষার পরামর্শ দেন।পরদিন তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার যে খবর ছড়িয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় কারও গুরুতর আঘাত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সূত্র জানায়, পলক সাধারণত প্রিজনভ্যানে বসেন না, বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন। ব্রেকের সময় দাঁড়িয়ে থাকায় তিনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
কারা সূত্র আরও জানায়, কারাগারের ভেতরে বন্দিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে প্রয়োজনে আদালতে সুস্থ অবস্থায় হাজির করা যায়।
একটি সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিনের কারাজীবনের ক্লান্তি থেকে কিছু বন্দি অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ, দিনের পর দিন কিংবা বছরের পর বছর কারাবন্দি জীবন কারো কাছেই সহজ নয়।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট রাতে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে পলকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরপর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।