গত কয়েকদিন ধরেই প্রায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে ডুবেছে ফসলের ক্ষেত।
বিশেষ করে আগাম জাতের রোপা আমন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ডুবে আছে ফসলের ক্ষেত।নষ্ট হচ্ছে ধান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সদর, কালকিনি, রাজৈর এবং শিবচরের নিম্নাঞ্চলের ফসলের ক্ষেত ডুবে আছে বৃষ্টির পানিতে।অন্যদিকে পদ্মানদীতে পানি বাড়ায় চর এলাকার ধান ও বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে।
মাদারীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরে চলতি মৌসুমে ৩৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩২ হাজার ৭৮০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।মাদারীপুরে এবার সাড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ জমির ধান তলিয়ে গেছে। দুই/তিনদিন ধরে পানিতে তলিয়ে থাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জেলার পদ্মার চর এলাকার চাষিরা জানান, একদিকে বৃষ্টিপাত, অন্যদিকে নদীতে পানি বাড়ছে। এতে করে নিচু জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ধান ও বাদাম। এছাড়া নিচু জমির পাট, সবজির বাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৃষ্টিতে।
জেলার মধ্যচক এলাকার কৃষক হান্নান হাওলাদার বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেও যে মাঠ ছিল সোনালি ফসলে ভরা, সেই মাঠ এখন আমাদের হতাশার প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেতেই ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কৃষি মৌসুমের শেষ সময়ে এমন বৃষ্টি আমাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
একই এলাকার কৃষক শাহাবুদ্দিন মিয়ার ৩ বিঘা, মুহিত মিয়ার ২ বিঘা, কবির মিয়ার ৫ বিঘা এবং ফজল মিয়ার ৪ বিঘা জমির ধানও পানির নিচে চলে গেছে। তাদের ভাষ্য, পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কিছুই ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর কাতলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার বাদশা জানান, এ মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক ও ডিজেলসহ সবকিছু ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। তাই দাম একটু বেশি হওয়ায় আবাদে খরচও বেশি হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার জমিতে ধান ভালো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর খরচও বেশি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে ফসল।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. রহিমা খাতুন বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আর উচ্চফলনশীল ধান চাষ করায় ফলনও ভালো হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত তাপদাহে ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ধান পেকে গেছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে কয়েক জায়গায় ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।