ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ, এবার সুর পাল্টালেন রচনা!

ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ, এবার সুর পাল্টালেন রচনা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে অনেকের গলার স্বর পাল্টে যাচ্ছে! এমন আলোচনায় এবার অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার কাজের সংস্কৃতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সাবেক তৃণমূলের তারকা সাংসদের।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল দীর্ঘ পনেরো বছরের শাসনের পতন হতেই বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির ভেতর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সমাহার।

গত সোমবার থেকে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক তারকাই ‘১৮০ ডিগ্রি’ ঘুরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।কারণ বিগত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় এমন রব উঠেছে- রাজনীতি থেকে মুক্ত হোক টলিউড! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর ছড়িয়েছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত এ কবছরে বাংলা সিনেপাড়ার ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও কম হইচই হয়নি। 

এবার রচনার মন্তব্য, আমরা এতবছর ধরে অভিনয় করেছি আগে তো এগুলো ছিল না, এটা মানতেই হবে। বিগত ১৫ বছর আগে কোনও রাজনৈতিক দল এসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না।এটাই সত্যি। আমরা নিজেদের মতো কাজ করেছি। ইম্পার প্রেসিডেন্ট, ফোরাম সব একসঙ্গে কাজ করত। সব কয়টা ফিল্ডের আলাদা আলাদা ফোরাম ছিল। তার মধ্যে একজন ‘হেড’ থাকতেন, যাঁর তত্ত্বাবধানে সবটা চলত। খুব শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। কোনও দিন এত অশান্ত পরিবেশ টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল না। কিন্তু ইদানিংকালে সেটা হয়েছিল। সেটা অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

শুধু তাই নয়! যে দলের হাত ধরে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু, বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তাদের অবদান নিয়ে সমালোচনা করতেও পিছপা হননি তিনি।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন রচনা। সেবারই ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে হুগলি কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত রচনা। সেই কারণেই বাংলা সিনেদুনিয়ার বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি সিনিয়র অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত।

এতদিন কেন তাহলে ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে সরব হননি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? নেত্রী-অভিনেত্রীর মন্তব্য, যেহেতু সরকার তাদের ছিল আমরা কেউ হয়তো সে অর্থে খুব জোর গলায় আওয়াজ তুলতে পারিনি।

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা এও দাবি করে যে, অনেকদিন ধরেই তার মনে হয়েছিল মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করছে না। তিনি জানান, প্রচারে গেলে বহু মানুষ গিয়ে তার সঙ্গে সেলফি তুলে চলে যান, এটা দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল যে মানুষ তাকে দেখতে আসছে কিন্তু ভোটবাক্সে তার কোনও প্রতিফলন নেই।

হুগলির ‘দিদি নম্বর ওয়ান’র এমন ‘উল্টো সুর’ ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে মানুষের মনে। অনেকেই বলছেন- তাহলে কি এবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ডিগবাজি’ খেলেন?

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS