জার্মানিতে পার্কিং মিটার থেকে ১৯ লাখ ইউরো চুরি, স্বীকার করলেন দম্পতি

জার্মানিতে পার্কিং মিটার থেকে ১৯ লাখ ইউরো চুরি, স্বীকার করলেন দম্পতি

পার্কিং মিটার থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরির দায়ে অভিযুক্ত এক জার্মান দম্পতি আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। বাভারিয়ার একটি নয়নাভিরাম শহর থেকে প্রায় ২০ লাখ ইউরো গায়েব হয়ে গিয়েছিল কিন্তু বছরের পর বছর কেউ তা টেরই পায়নি।

বাভারিয়ায় পার্কিং মিটার থেকে লাখ লাখ ইউরো চুরির দায়ে অভিযুক্ত এ দম্পতি মঙ্গলবার বিচারের শুরুতে অপরাধ স্বীকার করে নেন।

এ দম্পতির মধ্যে একজন পার্কিং মিটার খালি করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।তারা স্বীকার করেছেন, প্রায় এক দশক ধরে চালানো এক পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা ১৯ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছেন।

কেম্পটেন রিজিওনাল কোর্টে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ আসামি আদালতকে বলেন, তিনি তার কাজের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ সত্য।

প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছিলেন, শহরের ওই প্রাক্তন কর্মচারী তার ৩৯ বছর বয়সী স্ত্রীর সহায়তায় এক দশকে প্রায় ১৯ লাখ ইউরো (২.২ মিলিয়ন ডলার) চুরি করেছেন। গত নভেম্বর থেকে হেফাজতে থাকা এই দম্পতি ‘ব্যবসায়িক চুরির’ অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যার সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড।

ওই ব্যক্তি অলগাউ নামক জনপ্রিয় ও মনোরম অঞ্চলের পার্কিং মিটারগুলো খালি করার দায়িত্বে ছিলেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সংগৃহীত কয়েনগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করতেন এবং সুপারমার্কেটের ভাউচারে রূপান্তর করতেন। শুধু ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই তারা ৩৩৫টি আলাদা ঘটনায় ১৩.৪ লাখ ইউরো চুরি করেছেন বলে জানা গেছে।

জার্মানির একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুষ আসামি আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আদালতের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান, শুরুতে তিনি কয়েনের স্তূপ থেকে অল্প পরিমাণ খুচরা পয়সা বাড়িতে নিয়ে যেতেন। ধীরে ধীরে চুরির এ পরিমাণ বাড়তে থাকে। তিনি আদালতকে বলেন, ‘একটা সময়ে এটি স্বয়ংক্রিয় হয়ে গিয়েছিল, অনেকটা দুষ্টচক্রের মতো।’

গত নভেম্বরে ঘটনাটি জানাজানি হয়, যখন একটি ব্যাংক বারবার সন্দেহজনক নগদ অর্থ জমা দেওয়ার কারণে মানি লন্ডারিংয়ের সন্দেহে তদন্তকারীদের সতর্ক করে।

এ তদন্তের ফলে কেম্পটেন শহর তাদের পার্কিং ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে। তালাগুলো বদলে ফেলা হয়েছে, অতিরিক্ত তল্লাশি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং একটি বাইরের সংস্থাকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী নারী আসামি জানিয়েছেন, চুরি করা সমস্ত টাকা শেষ হয়ে গেছে। জানা গেছে, ওই দম্পতির একটি ঘোড়ার খামার, দামি গাড়ি, ব্যাগ, জুতা ও পোশাক ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাত্রার মান খুব উঁচু ছিল, আমরা সবকিছু খরচ করে ফেলেছি।

এমনকি ২০২৫ সালের আগস্টে যখন এ দম্পতির সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে, তখন ৪০ বছর বয়সী আসামি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গিনীকে শেষ বণ্টন হিসেবে ১৫ হাজার ইউরো মূল্যের কয়েন দিয়েছিলেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS