কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি এড়াতে এক নজিরবিহীন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন থেকে গুগল, মাইক্রোসফট এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই তাদের যেকোনো শক্তিশালী এআই মডেল জনসমক্ষে উন্মুক্ত করার আগেই মার্কিন সরকারকে পরীক্ষার সুযোগ দেবে।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পাঁচটি ‘ফ্রন্টিয়ার এআই ল্যাব’এখন সরকারি তদারকির আওতায় এলো।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীনে থাকা ‘সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন’ (সিএআইএসআই) এই মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মূলত নতুন কোনো এআই সিস্টেমের মাধ্যমে যেসব ঝুঁকি যাচাই করা হবে তা হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা অর্থাৎ হ্যাকিং বা ডিজিটাল হামলায় এআই-এর অপব্যবহার; জৈব নিরাপত্তা অর্থাৎ রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে এআইয়ের সম্ভাব্য সহায়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা অর্থাৎ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি।
বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রতিষ্ঠিত ‘এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ কে গত জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পুনর্গঠন করে এর নাম দেয় সিএআইএসআই। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য অহেতুক নিয়ন্ত্রণ কমানো, তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।ট্রাম্পের এআই অ্যাকশন প্ল্যানের অংশ হিসেবে এই কেন্দ্রটি এখন জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়নগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সবগুলো প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে সই করলেও অ্যানথ্রোপিকের সাথে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক কিছুটা জটিল। স্বায়ত্তশাসিত মারণাস্ত্রে নিজেদের এআই ব্যবহারের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরাতে রাজি না হওয়ায় গত মার্চ মাসে পেন্টাগন কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে কোম্পানিটির সাথে সরকারের আইনি লড়াই চলছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকারি কাজে এর ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
বর্তমানে এই পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি ‘স্বেচ্ছামূলক’ হলেও ভবিষ্যতে এটি বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এআই মডেলগুলোর জন্য প্রি-রিলিজ বা মুক্তির আগে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
সিএআইএসআইয়ের পরিচালক ক্রিস ফল বলেন, জনস্বার্থে এবং একটি জটিল সময়ে এই শিল্প সহযোগিতা আমাদের কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেবে। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ৪০টিরও বেশি এআই মডেলের মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।
সূত্র: টমস হার্ডওয়্যার