ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এবার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অবরোধ ঘোষিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি আটক, দিক পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা সরাসরি জব্দ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নাবিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছে, অবরোধ কার্যকর হলে কোনো জাহাজের জাতীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অর্থাৎ, যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
তবে একই বার্তায় একটি ব্যতিক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যাতায়াতকারী নিরপেক্ষ জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বন্দর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অবরোধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের সময় অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টা, (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এ অভিযান শুরুর কথা রয়েছে।
এদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামি মনে করছেন, এই অবরোধ বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের বন্দর থেকে যাওয়া কিংবা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করা জাহাজ থামাতে গেলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তিনি মনে করেন, এত বিশাল জলপথে তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা সুপারট্যাঙ্কার থামানো কতটা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পুরো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুহাম্মদ ইসলামি আরও বলেন, বর্তমানে ইরান তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যাহত হোক, এমন পরিস্থিতি তারা কোনোভাবেই চাইবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, এই সংকট ঘিরে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে শক্ত বার্তা দিতে চাইতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের পথই এখনো সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। কারণ, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।