মোহামেডানে চরম অসন্তোষ, ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার ‘বলির পাঁঠা’ কি কোচ আলফাজ?

মোহামেডানে চরম অসন্তোষ, ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার ‘বলির পাঁঠা’ কি কোচ আলফাজ?

ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের অন্দরমহলে এখন চরম অস্থিরতা। মাঠে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায়ে গত মৌসুমের সফল কোচ আলফাজ আহমেদকে হঠাৎ করেই বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।তবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পেছনে কোচের ব্যর্থতার চেয়ে ম্যানেজমেন্টের অব্যবস্থাপনা এবং চরম আর্থিক সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন খোদ খেলোয়াড়রাই। প্রশ্ন উঠেছে দুর্বল দল গঠন এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতনের দায় এড়াতেই কি কোচকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হলো?

কোচ ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিস্মিত দলের ফুটবলাররা।মোহামেডানের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিঠু গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের অবস্থান এবং ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। হঠাৎ কোচের বিদায় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসলে ফুটবলে নিয়মটা এরকমই।ফুটবলাররা টিম রেজাল্ট না পেলে কোচ স্যাক করে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ওভারঅল দেখা যায় আমরা প্লেয়াররাই আসলে ওরকম ভালো খেলতে পারছি না, রেজাল্ট দিতে পারছি না।এখন মাঝপথে কোচ স্যাক করার বিষয়ে আসলে আমরা ভেতর থেকে কিছু জানতাম না। আমরা বিকালেও প্র্যাকটিস করেছি কোচের সঙ্গে। আমরা সন্ধ্যার পর জানতে পারছি উনি আমাদের ক্লাবে নাই, থাকবেন না।’

দলের বাজে পারফরম্যান্সের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্লাবের নড়বড়ে অর্থনৈতিক অবস্থা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা। বর্তমানে ফুটবলারদের ৫ মাসের বেতন বকেয়া পড়ে আছে। চরম আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে অধিনায়ক বলেন, ‘বেতন-ভাতা নতুন কমিটি আসার পরে কিছু দিয়েছে, একবার বেতন দিয়েছে। তারপরে আর বেতন দেয় নাই, পাঁচ মাস বাকি। ওরা আশ্বাস দিয়েছে দিবে। এখন ওরা কবে দিবে এই আলোচনা আমাদের কখনো হয় নাই।’ এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে খেলোয়াড়রা যখন অনুশীলন বর্জন করতে চেয়েছিলেন, তখন ম্যানেজমেন্টের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

আলফাজ আহমেদ মোহামেডানের ডাগআউটে একজন প্রমাণিত ও সফল নাম। তার অধীনে দল ৬টি ফাইনাল খেলেছে এবং ফেডারেশন কাপসহ দুটি মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ঘরে তুলেছে। তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে মিঠু বলেন, ‘এই মোহামেডানের কোচ হিসেবে উনি সফল। এরকম কোচকে এভাবে স্যাক করা আমার মতে ঠিক হয়নি। এবার তো চ্যাম্পিয়ন ফাইট দেওয়ার মতো দল আমরা করি নাই।’

তিনি স্পষ্ট ভাষায় ম্যানেজমেন্টকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, ‘কোচের দোষ এখানে আমি দেবো না। এখানে ম্যানেজমেন্টের ম্যাক্সিমাম দোষ। কারণ ওরা আমাদের সঠিক সময়ে বেতন দেয়নি। আমরা রেজাল্ট পাচ্ছি না। আমরা স্ট্রাইক করেছি প্র্যাকটিস করবো না, কোচ আর ম্যানেজার অনুরোধ করেছে বলে খেলেছি। আমরা কিন্তু কোনো ম্যানেজমেন্টকে পাইনি। শুধু কোচ আর ম্যানেজারকে পাইছি। আপনি এই সাফল্যের পরেও যদি কোচকে স্যাক করেন, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকে না।’ ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত তাই ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও ব্যর্থতাকে আরও বেশি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS