বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৬৭ বছরের বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।এর ফলে এখন থেকে বয়সের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসীন হতে পারবেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’ সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করেন।বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী না থাকায় তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদের চার বছরের মেয়াদ এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ আগের মতোই বহাল থাকছে।িতবে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’-এর ১০ অনুচ্ছেদের ৫ দফায় থাকা ‘৬৭ বছর পূর্ণ হলে পদে থাকা যাবে না’—এমন শর্তটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে চার বছরের জন্য নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা হবে না।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গভর্নর পদে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া জরুরি। বিদ্যমান বয়সসীমা অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। জনস্বার্থেই এই আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করা প্রয়োজন ছিল।
বয়সসীমা পরিবর্তনের ইতিহাস
গভর্নর পদের বয়সসীমা নিয়ে এটি তৃতীয় দফা পরিবর্তন। ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার আইন সংশোধন করে বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করেছিল। মূলত তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবিরকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব দিতেই সেই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে তার বয়স ৭৩ বছর হওয়ায় আইনি জটিলতা দেখা দেয়। সেই জটিলতা নিরসনে এবং দীর্ঘমেয়াদে যোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ দিতেই এবার বয়সসীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সংসদ।
সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবেই এই সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংক্রান্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও আজ নিষ্পত্তি হয়েছে।