রাজধানীর কর্মব্যস্ত দিন শেষ হতে না হতেই বিকেলের আবহ বদলে যায় ভিন্ন এক আমেজে। অফিস ছুটির পর অনেকের গন্তব্য এখন বাসা নয়, বরং ইফতারের প্রস্তুতি সারতে একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। সেই তালিকায় এগিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) ইফতার বাজার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর থেকেই হলঘরে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়।
কর্পোরেট পোশাকে তরুণ পেশাজীবী, পরিবারের জন্য ইফতার সংগ্রহে আসা অভিভাবক, এমনকি বন্ধুদের ছোট দল-সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক উপস্থিতি চোখে পড়ে।
বিক্রেতারা জানান, ছুটির দিনের তুলনায় ভিড় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও বিক্রি ছিল সন্তোষজনক।
ফ্যামিলি কম্বো ও কর্পোরেট প্যাকেজে বাড়তি চাহিদা
চলতি বছর স্টলগুলোতে ফ্যামিলি কম্বো ও কর্পোরেট প্যাকেজ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। বিফ গ্রিল, চিকেন রোস্ট, হালিম, কাবাব ও শরবতসহ বিভিন্ন দামের সেট অফিসফেরত ক্রেতাদের কাছে সুবিধাজনক বিকল্প হয়ে উঠেছে।বিক্রেতাদের ভাষ্য, আলাদা আইটেম বাছাইয়ের চেয়ে প্রস্তুত কম্বো নেওয়ায় সময় সাশ্রয় হয়, যা কর্মদিবসে বড় বিবেচ্য বিষয়।
দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে চাপা আলোচনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে মান, পরিবেশ ও সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে। স্টল মালিকরা জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলঘর, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পরিবার নিয়ে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ক্রেতারা।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি
প্রবেশপথে নিয়মিত তল্লাশি, ভেতরে পর্যাপ্ত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক, এবং সার্বিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ-এই তিনটি বিষয় ছিল দৃশ্যমান।
পার্কিং এলাকায় চাপ থাকলেও যানজট বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। নারী ও শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আয়োজকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থারই ইঙ্গিত দেয়।
সামাজিক মিলনস্থলে রূপ নিয়েছে
ইফতার বাজার এখন শুধু খাবার সংগ্রহের জায়গা নয়; এটি এক ধরনের সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। কেউ সেখানেই বসে ইফতার করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ বা রিল তৈরি করছেন। কর্মদিবসের ক্লান্তি শেষে এমন আয়োজন নগরজীবনে সাময়িক স্বস্তির পরিসর তৈরি করছে।
আয়োজকরা জানায়, রমজানজুড়ে চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে মান ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও কর্মদিবসে একই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সব মিলিয়ে, কর্মব্যস্ত দিনের শেষে স্বস্তিদায়ক, নিয়ন্ত্রিত ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে ইফতার সংগ্রহের অভিজ্ঞতা দিতে পারায় আইসিসিবির এই আয়োজন ইতোমধ্যে রাজধানীর রমজান সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।