সিভির এক ভুলেই হাতছাড়া হলো চাকরি: ‘অলিভ অয়েল’ বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিন

সিভির এক ভুলেই হাতছাড়া হলো চাকরি: ‘অলিভ অয়েল’ বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিন

চাকরির বাজারে এখন তুমুল প্রতিযোগিতা। হাজার হাজার প্রার্থীর ভিড়ে নিজেকে একটু আলাদাভাবে তুলে ধরতে সবাই চান সিভিতে বিশেষ কিছু যোগ করতে। কিন্তু সেই বিশেষ কিছু যদি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়, তবে কপালে দুঃখ অবধারিত। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এক চাকরিপ্রার্থীর সিভিতে শখের তালিকায় ‘অলিভ অয়েল’ লেখা দেখে নিয়োগদাতার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনাটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে যখন একজন নিয়োগদাতা নাম প্রকাশ না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই প্রার্থীর সিভির একটি অংশ শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে ‘অলিভ অয়েল’ শব্দ দুটি।

সেই নিয়োগদাতা দাবি করেছেন, সিভিতে শখের জায়গায় রান্নার তেলের নাম লেখাটি প্রার্থীর কাণ্ডজ্ঞানহীনতারই পরিচয় দেয়। আর এই একটি কারণেই সম্ভাবনাময় ওই প্রার্থীর ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছে। নিয়োগদাতার চোখে এটি ছিল ক্ষমার অযোগ্য এক ভুল। তাঁর মতে, পেশাদার একটি দলিলে এমন অদ্ভুত পছন্দের কথা উল্লেখ করা প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ বলছেন নিয়োগদাতা অতিমাত্রায় কঠোর ছিলেন, আবার কেউ বলছেন প্রার্থীর এমন অদ্ভুত শখ উল্লেখ করাটা আসলেই বোকামি ছিল।

অলিভ অয়েল-কাণ্ড: ঠিক না বেঠিক—

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ বলছেন নিয়োগদাতা অতিমাত্রায় কঠোর ছিলেন, আবার কেউ বলছেন প্রার্থীর এমন অদ্ভুত শখ উল্লেখ করাটা আসলেই বোকামি ছিল। এই বিতর্ক এখন বড় এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমস্যা কি আসলে অলিভ অয়েল নিয়ে, নাকি সিভিতে এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া নিয়ে? লেখক পলি হাডসন এই ঘটনার ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই প্রার্থী হয়তো নিজের সিভিটি এআই দিয়ে লিখিয়েছিলেন এবং এআই অতি উৎসাহী হয়ে কোনোভাবে অলিভ অয়েলকে তাঁর শখ হিসেবে জুড়ে দিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা যে ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রযুক্তি সব সময় আপনার পরম বন্ধু না-ও হতে পারে।

আমাদের সিভিতে কী ভুল থাকে—

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে বিষয়টি আমাদের তরুণদের জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আমাদের দেশের অনেক চাকরিপ্রার্থী এখনো সিভিতে শখের তালিকায় সেই পুরনো ‘বই পড়া’ কিংবা ‘ভ্রমণ’ লিখে রাখেন। কিন্তু বর্তমানে বই পড়ার অর্থ অনেক ক্ষেত্রে কেবল ফেসবুক বা ইউটিউব স্ক্রল করা। আমাদের দেশের করপোরেট জগতেও নিয়োগদাতারা এখন সিভির এই অংশটি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। বিদেশে যদি কেউ অলিভ অয়েল লিখে বিপদে পড়ে, তবে বাংলাদেশে যদি কেউ শখের তালিকায় ‘কাচ্চি বিরিয়ানি’ কিংবা ‘সরিষার তেল’ লিখে দেন, তবে তাঁর ভাগ্যও একই দিকে গড়ানোর কথা।

আসলে আপনার কোন শখটি নিয়োগদাতার পছন্দ হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। আপনার কাছে যা বিশেষ কিছু, অন্যের কাছে তা আদিখ্যেতা মনে হতে পারে। তাই নিরাপদ থাকার সহজ উপায় হলো সিভিতে একদম অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এড়িয়ে চলা। নিজেকে আলাদা দেখাতে গিয়ে অদ্ভুত কিছু লিখে হাসির পাত্র হওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যদি সিভিতে শখ লিখতেই হয়, তবে এমন কিছু বেছে নেওয়া উচিত, যা আপনার কাজের দক্ষতার সাথে মানিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সিভিতে অলিভ অয়েলের মতো শখ না লিখে সাধারণ থাকাই নিরাপদ, যাতে অন্তত ইন্টারভিউয়ের সুযোগটি হাতছাড়া না হয়। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS