ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট হয়ে গেল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবুও প্রার্থী হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন প্রার্থীরা। আবার ভোটে হেরে জামানত হারানোর দাগ লাগিয়েছেন অনেকে।
এবার সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়জন বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৫টি আসনে বিএনপি ও একটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। বিজয়ীদের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থী ছাড়াও সিলেট-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদকে জামানত হারাতে হয়নি। অপর ২০ জন প্রার্থীই ভোটে ফল বিপর্যয়ের পাশাপাশি জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে ছয়জন, সিলেট-২ আসনে তিনজন, সিলেট-৩ আসনে ৪ জন, সিলেট-৪ আসনে তিনজন, সিলেট-৫ আসনে একজন ও সিলেট-৬ আসনে তিনজন।
সিলেট-১ আসনে জামানত হারিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থী। তারা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পাওয়ায় জামানত রক্ষা হয়নি।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) দুই হাজার ৭০১ ভোট, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন পেয়েছেন ৩১৪ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই) এক হাজার ১৩৪ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আনোয়ার হোমেন (কাস্তে) ৯০৮ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ২৩৯ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মার্কবাদী সঞ্জয় (কাচি) ৮০১ ভোট।
জামানত রক্ষায় তাদের প্রয়োজন ছিল প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ৪০ হাজার ৬৯২ ভোট।
এ আসনে ২১৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৩ নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং হিজড়া ১৩ জন। নির্বাচনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৯টি। শতকরা প্রদত্ত ভোট ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।এর মধ্যে বাতিল হয় ৭ হাজার ৫২৩টি এবং বৈধ ভোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৬টি।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট।
সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯১১ জন। ১২৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৭টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটারের ৪৪.৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৫১টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬।
বৈধ ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।
এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪২০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা) ১ হাজার ৪০৮ ভোট এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য) পেয়েছেন ৬৩৭ ভোট।
প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২০ হাজার ৫৬৩ ভোটের কম পাওয়ায় এই তিন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
সিলেট-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে চারজন জামানত হারাচ্ছেন। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৬ জন। ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৬৪৭টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটারের ৪৯.২০ শতাংশ।
এর মধ্যে ৫ হাজার ৬টি ভোট বাতিল হয়। বাতিল ভোট বাদ দিলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪১।
আসনটিতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিক্সা) ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন।
আসনটিতে বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রার্থী অংশ নেন। জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৬৩০ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (হাতপাখা) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ ভোট।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ৪ হাজার ১৯৯ ভোট এবং মইনুল বাকর (কম্পিউটার) ২৯৭ ভোট অর্জন করেন।
জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫ হাজার ৫৮১ ভোট। নির্ধারিত সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় এসব প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। ১৭৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৫টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটারের ৫২.৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৮।
বৈধ ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমেদ (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৯৬৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬১ ভোট।
জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৩ হাজার ৮২১ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় এই তিন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ জন। ১৫৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ২ লাখ ১১ হাজার ৫১৮টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটারের ৪৯.৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৬৬টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬ হাজার ৭৫২।
বৈধ ভোটের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি) ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জমিয়ত জোট মনোনীত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট।
এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (ফুটবল) পেয়েছেন ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট। বাংলাদেশ মুসলীম লীগের প্রার্থী মো. বিলাল উদ্দিন (হারিকেন) পেয়েছেন মাত্র ৩৭২ ভোট।
জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৪৪০ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় মো. বিলাল উদ্দিন জামানত হারিয়েছেন।
সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। ১৯৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৬টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটারের ৪৭.৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০৮টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৮।
বৈধ ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৬৯ ভোট।
এ আসনে আরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৮৪৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুন নুর (লাঙ্গল) ১ হাজার ১৭০ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী জাহিদুর রহমান (ট্রাক) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৬ ভোট।
জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ৩০ হাজার ৪৬২ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামসহ তিনজন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।