ব্যাট হাতে কেউই পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। তবু দলগত প্রচেষ্টায় লড়াই করার মতো পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান। পরে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আটকে দিয়ে সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্বাগতিকরা।
লাহোরে বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
আগে ব্যাট করে ১৬৮ রান তুললেও জবাবে অস্ট্রেলিয়াকে ১৪৬ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বশেষ জয় ছিল ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এরপর টানা সাত ম্যাচে হার দেখার পর অবশেষে জয় ফিরল বাবর আজমদের শিবিরে।
ব্যাট হাতে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাইম আইয়ুব। দুই ছক্কা ও তিন চারে ২২ বলে করেন ৪০ রান। পরে বল হাতেও কার্যকর ছিলেন তিনি। অফ স্পিনে ২৯ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।
এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন সাইম।
তবে বোলিংয়ে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন আবরার আহমেদ। চার ওভারে মাত্র ১০ রান খরচায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ইনিংসের প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহান ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।তবে সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক সালমান আলি আগার ব্যাটে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। পাওয়ার প্লে শেষে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৫৬।
অষ্টম ওভারে সাইম আউট হলে ভাঙে তাদের ৭৪ রানের জুটি। পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন সালমানও। চারটি ছক্কা ও একটি চারে তিনি করেন ৩৯ রান। প্রথম ১০ ওভারে ৯২ রান তুললেও শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে গতি হারায় পাকিস্তান। শেষ ১০ ওভারে আসে মাত্র ৬০ রান।
বাবর আজম ২৪ রান করলেও এরপর কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। ২৪ রানে চার উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। দুটি করে উইকেট পান জেভিয়ার বার্টলেট ও অভিষিক্ত মাহলি বিয়ার্ডম্যান।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। অধিনায়ক ট্রাভিস হেড আগ্রাসী শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তিনি ২৩ রান করে ফেরেন।
মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাট রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিন কিছুটা আশা জাগালেও অষ্টম ওভারে জোড়া আঘাতে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। রেনশ রান আউট হওয়ার পরপরই কনোলিকে বোল্ড করেন আবরার। মোহাম্মদ নাওয়াজ ফিরিয়ে দেন মিচেল ওয়েনকেও।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। তিনিও নাওয়াজের শিকার হন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শেষদিকে বার্টলেট ২৫ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করলেও হারের ব্যবধানই কেবল কমাতে পেরেছেন।
একই মাঠে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।