ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের

বৃষ্টি-বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দ হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১২৮ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় পাকিস্তান।

মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে তোলে ২৭৪ রান।পরে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান।

পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা।

পাকিস্তানের ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তিনি। 

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অপর ওপেনার সাইফ হাসানও। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি।

আব্দুল সামাদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১২ বলে দুই চারে ১২ রান করেন সাইফ।

টপ অর্ডারের আরেক ধাক্কা আসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেটে। শাহিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি।

এই অবস্থায় ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭ রান। লিটন দাসের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়।

এর মধ্যেই মাঠে ঝড়ো বাতাস ও আশপাশে বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। 

রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। লিটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হলে ভেঙে যায় জুটি।

লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। আফিফ হোসেন ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন, মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রান করে ফিরেন। সাদাকাতের স্পিনে রিশাদ হোসেনও টিকতে পারেননি।

এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে তার ইনিংস শেষ হলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়।

পরে মোস্তাফিজুর রহমানও রউফের বলে কট বিহাইন্ড হলে বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। তাসকিন আহমেদও বিদায় নেন ১৪ বলে ৫ রান করে।

এর আগে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছে সফরকারীরা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলেছেন সাদাকাত। মাত্র ৩১ বলে ফিফটির ঘরে পৌঁছান তিনি। তাদের শতরানের জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মিরাজ।

পাকিস্তানের শতরানের আগে বাংলাদেশ কোনো উইকেটের সুযোগ ই পায়নি। নাহিদ রানার ডেলিভারিতে সাহিবজাদা ফারহানের এলবিডব্লিউর আবেদন মেনে আউট দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। তাতেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। সাদাকাতের বিপক্ষেও কট বিহাইন্ডের আবেদন করে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাসকিনের বল ব্যাটে লাগেনি, তাই রিভিউ হারাতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ১৩তম ওভারের শেষ বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মিরাজের বলে সহজেই বল তালুবন্দী করেন লিটন দাস।

শুরুতে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও সাবলীল ছিলেন না ফারহান। রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেট দেন তিনি। তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ফারহান ৪৬ বলে ৩১ করেন।

এরপর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ঠিকঠাক লাগাতে পারেননি শামিল হুসাইন। ক্যাচ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২২ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। সেখান থেকে ইনিংস সামলান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। 

পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৩৪তম ওভারে পাকিস্তান স্পর্শ করে দুইশ রানের মাইলফলক। 

৫০ বলে ৫০ রান করা সালমান পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। রিজওয়ানের সঙ্গে তার জুটি একশ ছাড়ায় মাত্র ১০৮ বলে। তবে নাটকীয়ভাবে ভাঙে এই জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফ্লিক করে রিজওয়ান বল ফেরত দিলে ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান। দ্রুত বল তুলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। 

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। পরের ধাক্কা আসে হুসাইন তালাতের উইকেটে। ১৩ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তালাত। এরপর রান আউটে ফেরেন আব্দুল সামাদ। মিডউইকেটে বল পাঠিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। 

অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন ব্যর্থ। তবে ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও উপহার দেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS