এবার পাইকারি বাজারে কম তরমুজের দাম

এবার পাইকারি বাজারে কম তরমুজের দাম

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে জমজমাট হয়ে উঠেছে তরমুজের বাজার। প্রতিদিনই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে সড়ক ও নৌপথে তরমুজ আসছে বরিশালের পাইকারি বাজারে। সেখান থেকে পাইকাররা দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানের খুচরা বাজারে পাঠাচ্ছেন।

এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সরবরাহ বাড়লেও দর কম থাকায় পাইকারি বাজারের পরিস্থিতি অনেকটাই খারাপ বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

পাইকারি তরমুজের ক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম অনেকটাই কম। আবার বড় আকারের তরমুজেরও সংকট রয়েছে।

অপরদিকে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি আগের তুলনায় পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফলমূল ডটকমের আড়ত ম্যানেজার মো. বাহার হোসেন জানান, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং বরিশালের চরাঞ্চল থেকে তরমুজ আসছে বরিশালের পোর্টরোডের পাইকারি মোকামে।সেখান থেকে প্রতি বছরের মতো তরমুজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া বরিশালের স্থানীয় বাজারেও পোর্টরোডের মোকাম থেকে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই হিসেবে মৌসুমের শুরুতে তরমুজের চাহিদা ভালোই রয়েছে।

তবে সার্বিকভাবে বাজার পরিস্থিতি খারাপ বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য, আগাম তরমুজের দাম সাধারণত বেশি থাকার কথা। কিন্তু গত বছর আগাম তরমুজ শতপ্রতি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার গত বছর এ সময় বাজারে ২০ কেজি ওজনের তরমুজ থাকলেও এবার ১২ থেকে ১৩ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ বাজারে নেই। এতে কৃষকরা কিছুটা হতাশ।

তবে কৃষকদের কেউ কেউ বলছেন, মৌসুম শেষে কমবেশি লাভ হবে।পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি উপজেলা-র তরমুজ চাষি লাল মিয়া জোমাদ্দার বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি চার হাজার পিস তরমুজ বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে নিচে ১২ হাজার এবং ওপরে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন। এতে লোকসান হয়নি। খেতে থাকা বাকি তরমুজ বিক্রি করতে পারলে লাভের পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও মানভেদে প্রতিটি তরমুজ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক দোকানে কেজি হিসেবে ৬০ থেকে ৮৫ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। তুলনামূলক বড় তরমুজের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে।

বটতলা বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, এখন বাজারে আগাম জাতের তরমুজ বেশি আসছে। সামনে এপ্রিলের দিকে আরও বেশি তরমুজ উঠবে। তখন সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসবে।

তবে রমজানে তরমুজের যে চাহিদা থাকে, তা অন্য সময়ে থাকে না, এমন অভিযোগ ভোক্তাদের। তাদের দাবি, চাহিদা বেশি হওয়ার সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা তরমুজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই। তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS