নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন আমির খান ও রিনা দত্ত। বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করা থেকে শুরু করে আমিরের ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাইয়ে রিনার ছায়ার মতো পাশে থাকা, সবটাই ছিল রূপকথার মতো।
কিন্তু ২০০২ সালে ১৬ বছরের সেই দীর্ঘ দাম্পত্যে ইতি টেনে যখন তারা আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন। সেই সময় এই খবরে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রি।কেন এই বিচ্ছেদ? কোনও তৃতীয় ব্যক্তি না কি অন্য কোনও কারণ?
অনেকেই মনে করতেন আমিরের দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গে আমিরের ঘনিষ্ঠতাই হয়তো রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের মূল কারণ। কিন্তু আমির খান নিজে জানিয়েছেন অন্য কথা।
তার মতে, কোনও তৃতীয় ব্যক্তির জন্য নয় বরং পরিস্থিতির চাপে এবং ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আমির একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘রিনার সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল।এটা কেবল আমার বা রীনার জন্য নয়, আমাদের পরিবারের জন্যও ছিল কঠিন সময়।’
আমির স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি এতটাই কাজের প্রতি মগ্ন ছিলেন যে পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হওয়ার দৌড়ে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছোট ছোট আনন্দ বা দায়িত্বগুলোকে অজান্তেই অবহেলা করে ফেলেছিলেন। রীনার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ আইনি হলেও তা কোনও কাদা ছোঁড়াছুড়ির পর্যায়ে যায়নি।
বরং আজও রীনাকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এবং সেরা বন্ধু হিসেবে সম্মান করেন আমির।
বলিউডের আর পাঁচটা বিচ্ছেদের মতো আমির-রিনার সম্পর্ক তিক্ততায় শেষ হয়নি। আজও আমিরের বাড়ির যেকোনও অনুষ্ঠানে বা দুই সন্তান জুনেইদ ও আইরার প্রয়োজনে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। এমনকি আমির যখন কিরণ রাওকে বিয়ে করেন, তখনও রীনার সঙ্গে তার সৌহার্দ্য বজায় ছিল।
আমির জানান, বিচ্ছেদের মানে এই নয় যে আমাদের ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা শেষ হয়ে গিয়েছে।রীনা আজও আমাদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় দুই বছর পর ‘লাগান’ সিনেমার সেটে আলাপ হওয়া কিরণ রাওয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আমির এবং ২০০৫ সালে তাকে বিয়ে করেন। যদিও রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের সময় কিরণের কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই বারবার দাবি করেছেন আমির।
জীবনযুদ্ধের ময়দানে আমির খান হয়তো অনেক জয় পেয়েছেন, কিন্তু প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সেই ক্ষত যে আজও কোথাও একটা রয়ে গিয়েছে, তা তার কথায় মাঝে মাঝেই ফুটে ওঠে।