ফর্টিসকে হারিয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছেন তপু

ফর্টিসকে হারিয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছেন তপু

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে ফর্টিস এফসিকে হারিয়ে এককভাবে টেবিলের সিংহাসন দখল করেছে বসুন্ধরা কিংস। ৫ গোলের রোমাঞ্চকর এই লড়াই শেষে কিংসের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ দাবি করেছেন, এই জয় তাদের শিরোপা জয়ের পথে অনেকটা নিশ্চিত করে দিয়েছে।

টানা এক সপ্তাহ প্রস্তুতির পর শক্তিশালী ফর্টিসের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়টি কিংসের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তপু বর্মণ বলেন, ‘এই ম্যাচটা বসুন্ধরা কিংসের জন্য খুবই জরুরি ছিল এবং এই জয়টা আমি মনে করি আমাদের ৮০ ভাগ এগিয়ে রাখবে।কারণ আমরা এখন এককভাবে শীর্ষে আছি।’ 

তবে লিগ শিরোপার লম্বা লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘লিগ অনেকটা লং রেসের মতো, এখানে স্টেপ বাই স্টেপ যেতে হয়। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ডেফিনেটলি আমরা এ বছর চ্যাম্পিয়নশিপটা ফিরিয়ে আনবো।’

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের নায়ক ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো, যার হ্যাটট্রিকে জয় নিশ্চিত হয় কিংসের।তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের পারফরম্যান্সে রীতিমতো মুগ্ধ তপু। 

ফাহিমকে ‘সুপার সাব’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফাহিম দুর্দান্ত ছিল। ও নামার পর আমাদের স্পিড আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। রাইট সাইড দিয়ে আমাদের রাকিব, ফাহিম—আমি মনে করি ওরা সাউথ এশিয়ার বেস্ট ফরোয়ার্ড।

এরকম খেলোয়াড় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তপু বর্মণ ও ফাহিম দুজনেই ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে মাঠে ফিরেছিলেন। তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াই কিংসের জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। এ প্রসঙ্গে ফাহিম জানান, ‘মাঠে নামার আগে তপু ভাই আমাকে বলেছিলেন, আমাদের এই ম্যাচে যা করার করতে হবে। ভাইয়ের আমার ওপর বিশ্বাস ছিল, আমিও ভাইয়ের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম।ভাই ডিফেন্সে কাজ করেছে, আর আমি অ্যাটাকে। এই কমিউনিকেশনেই আমাদের ভালো একটা জয় এসেছে।’ 

দোরিয়েলতনের হ্যাটট্রিক পূরণের জয়সূচক গোলটিতেও ছিল ফাহিমের চমৎকার অ্যাসিস্ট।

ঘরোয়া লিগের এই উত্তেজনা শেষে এখন আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হচ্ছে। সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্পে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি নেবে বাংলাদেশ। তবে তপু বর্মণ ও রাকিব হোসেনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নামতে হবে লাল-সবুজদের।

সিনিয়রদের অনুপস্থিতি নিয়ে তরুণ উইঙ্গার ফাহিম বলেন, ‘বেস্ট ইলেভেনের তপু ভাই ও রাকিব ভাইকে আমরা সবসময় মিস করবো। যেহেতু এশিয়ান কোয়ালিফাইটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে, তাই এখন আমরা চেষ্টা করবো সামনের দুইটা ম্যাচ জিতে যেন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা আবার ফিরিয়ে আনতে পারি।’

বসুন্ধরা কিংসের এই জয় যেমন তাদের লিগ টেবিলের একক শীর্ষে (১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট) বসিয়েছে, তেমনি তপু বর্মণের নেতৃত্বে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও ফাহিমের আক্রমণাত্মক ফুটবল দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS