নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই সিদ্ধান্ত জানানোয় বড় ধরনের প্রস্তুতি সংকটে পড়েছে স্কটল্যান্ড।
হঠাৎ করে এমন আন্তর্জাতিক আসরে যুক্ত হওয়ায় ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ব্যস্ততা ও চাপ।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানান, বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা আগে না থাকায় দলটির জন্য কোনো স্পনসর চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। অথচ স্পনসরশিপ একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং এখান থেকেই বড় অঙ্কের আয় আসে বোর্ডের।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের জন্য আলাদা জার্সিও এখনো প্রস্তুত নয়।
এ প্রসঙ্গে লিন্ডব্লেড বলেন, ‘এত অল্প সময়ে যদি বিশ্বকাপের জার্সি পাওয়া যায়, সেটাই হবে বাড়তি প্রাপ্তি। না হলে সারা বছর যে জার্সি পরে খেলি, সেটিই পরে বিশ্বকাপে নামতে হতে পারে। স্পনসর পাওয়া যাবে কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়। হাতে আছে মাত্র এক সপ্তাহ।
দেখা যাক কী করা যায়।’
তিনি আরও জানান, ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের পুরো টিম কাঠামো খুব বড় নয়। কোচ, ক্রিকেটার এবং সহায়ক স্টাফ মিলিয়ে সদস্য সংখ্যা ত্রিশের কিছু বেশি। একই সময়ে একাধিক দল আন্তর্জাতিক সফরে থাকলে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
বর্তমানে স্কটল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দল যুব বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, নারী দল নেপাল সফরে রয়েছে এবং তারা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।এর মধ্যেই পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্ত হওয়ায় সংস্থাটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে বলে জানান লিন্ডব্লেড।
হঠাৎ পাওয়া এই বিশ্বকাপ সুযোগ স্কটল্যান্ডের জন্য গর্বের হলেও প্রস্তুতি, লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি যে বড় চ্যালেঞ্জ তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের বাস্তবতা।