সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক লেনদেন শুরু করার পর দুই দিনে সাবেক পাঁচ ব্যাংকের ১৩ হাজার ৩১৪ জন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করেছেন। তাদের উত্তোলনকৃত টাকার পরিমাণ ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। একই সময়ে আমানত জমা পড়েছে ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কেন্দ্রে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু হলে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করবে বলে আমরা মনে করেছিলাম, দুই দিনে গ্রাহকরা তার চেয়ে কম টাকা উত্তোলন করেছেন। এটি একটি ভালো লক্ষণ। গ্রাহকরা সম্মিলিত ব্যাংকের ওপরে আস্থা রেখেছেন।
গভর্নর বলেন, নতুন করে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকার নিচে।বাকি ৫ শতাংশ গ্রাহকের আমানত মোট আমানতের ৯৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা তুলতে পারছেন। বড় আমানতকারীরা মেয়াদের আগে টাকা উঠাতে চাইলে মোট টাকার ২০ শতাংশ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। এজন্য গ্রাহকদের বাজারদর হারে সুদ দিতে হবে।
ক্যানসার আক্রান্ত ও কিডনি বিকল রোগীরা আবেদন করে পুরো টাকায় তুলতে পারবেন। এজন্য এসব রোগীদের এখনই আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সিস্টেম প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব টাকা ফেরত দেওয়া হবে জানান গভর্নর।
এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ রপ্তানি বাড়ানো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা বেশ কিছুদিন ঋণপত্র খুলতে পারেননি, এখন তারা যাতে আগের মতো করে ঋণপত্র খুলতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে রপ্তানি বাড়বে।
এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ব্যাংক কাউকে ছাঁটাই করবে না। তবে ফরেনসিক অডিট শুরু হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ছাড় নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঁচটি ব্যাংক বেসরকারিভাবে পরিচালিত হবে। পাঁচটি ব্যাংকের কর্মীদের বেতন ইউনিফাইড করা হবে। এজন্য কোনো ব্যাংকের বেতন বাড়তে পারে, আবার কিছু ব্যাংকের কমতে পারে জানান গভর্নর।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।