প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) পুরান ঢাকার বাহারি ইফতারের বাজার জমেছে। হরেক রকমের নানা স্বাদের ইফতার টেনে আনছে ক্রেতাদের। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এই ইফতার ক্রেতারা কিনে নেওয়ার পাশাপাশি চাইলে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে খেতেও পারছেন।
প্রথম রোজার দিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আইসিসিবির ইফতার বাজার ক্রেতার পদচারণায় মুখর দেখা যায়।বিক্রেতাদের আশা, প্রতিদিনই এমন ভিড়বাট্টা হবে বলে তারা আশাবাদী।
আয়োজকরা জানান, ১০ম আইসিসিবি পুরান ঢাকা ইফতার বাজার প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়েছে। চলবে পুরো রমজান মাস। ইফতার বাজারে দেশি ইফতার সামগ্রীসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী ইফতার ও খাবার পাওয়া যাচ্ছে।ইফতার বাজারের সব স্টলেই এসব বাহারি ও রসালো ইফতার সামগ্রী মিলছে।
স্টলগুলোতে যা মিলছে, তার মধ্যে আছে ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ ছোলা ভুনা, পেঁয়াজু, রেশমি পেঁয়াজু, বেগুনি, ভেজিটেবল বল, ডিম চপ ও আলুর চপ। পাওয়া যাচ্ছে লাচ্ছিও।
এছাড়া টার্কিশ নান, গার্লিক নান, মিশরীয় নান, কিমা পরোটা ও রেশমি রুটি এবং বিভিন্ন ধরনের হালিম পাওয়া যাচ্ছে।
কাবাব আইটেমের মধ্যে রয়েছে চিকেন রেশমি কাবাব, চিকেন তন্দুরি কাবাব, মাটন বটি কাবাব, বিফ শিক কাবাব, চিকেন হায়দরাবাদি কাবাব, চিকেন টিক্কা কাবাব, চিকেন জালি কাবাব, হোল চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন ধরনের কাবাব।
রোস্ট আইটেমের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে চিকেন রোস্ট, মাটন লেগ রোস্ট, ফুল চিকেন ও ফুল মাটন রোস্ট। বিরিয়ানি ও কারি আইটেমের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মোরগ পোলাও, মাটন কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ হান্ডি, দীপ মেজবান, বিফ মেজবান, বিফ নেহারি, মাটন পায়া।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে রোজাদার গ্রাহকদের সব ধরনের সন্তুষ্টি নিশ্চিত নিজেদের চেষ্টার বিষয়টি জানালেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর চিফ অপারেটিং অফিসার এম এম জসিম উদ্দিন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বড় পরিসরে পরিচ্ছন্ন জায়গায় বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারের আয়োজনের জন্য আমরা সবকিছু করেছি।ক্রেতারা মানসম্মত সব ধরনের ইফতার সামগ্রী সংগ্রহ করার পাশাপাশি ঐতিহ্যের স্বাদও গ্রহণ করছেন। ইফতার বাজারের ভেন্যুর মধ্যে বসার সুন্দর জায়গা রাখা হয়েছে, যাতে এখানে ইফতার সংগ্রহের পাশাপাশি বসতে পারেন বা বসে ইফতার করতে পারেন। আর তা করা হয়েছে পরিবেশের আভিজাত্য রক্ষার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, শুরুর দিকে কিছু সমস্যা হলেও এখন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ইফতার সামগ্রী বানানো ও পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মান সমুন্নত থাকছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশন করা যাচ্ছে এবং সর্বোপরি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা হচ্ছে।
এই ইফতার বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে ব্যক্তি পর্যায়ে কেনাকাটা করছেন। পাশাপাশি অন্যরা প্রতিষ্ঠানিক ইফতার মাহফিল ও অনুষ্ঠানের জন্য অর্ডার দিচ্ছেন বলে জানান জসিম উদ্দিন ক্যাটারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম হোসেন।
ইফতার বাজারে অভিজাত খাদ্যের পাশাপাশি জুসেরও ব্যবস্থা আছে, যা রোজা শেষে একজন রোজাদারের জন্য খুবই দরকারি। বাজারে ইফতার সংগ্রহ করার পর ‘ঠাণ্ডা-গরম’ জুসের স্টল থেকে জুস সংগ্রহ করছে। স্টলটিতে কাঁচা আম, পাকা আম, জলপাই, কালো জাম, তরমুজ, অরেঞ্জ মাল্টা, লেবু, স্ট্রবেরি, তরমুজসহ প্রায় ২৫ ধরনের জুস রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র স্টাফ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, গতবার ইফতার বাজারে বেশ বিক্রি হয়েছিল। এবারও বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। এবার ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
ইফতারের পরিবেশ, মান ও দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা
আব্দুস সালাম সপরিবারে ইফতার কেনার জন্য আইসিসিবির বাজারে এসেছেন। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। তিনি ব্যবসায়ী, থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।
তিনি কয়েক পদের ইফতার কিনেছেন। ৮/৯ বছরের ছেলেটি বিভিন্ন স্টলে ছোটাছুটি করছে। বিভিন্ন ইফতারি দেখছে, পছন্দ করছে। সেটা তার বাবাও কিনছেন।
আব্দুস সালাম বলেন, এখান থেকে ইফতার কেনার বহুবিধ কারণ হলো, জায়গাটি পরিচ্ছন্ন, পণ্যের মান উচ্চ হলেও দামে তেমন নয়। সব ধরনের ইফতার পাওয়া যায়। আরও একটি সুবিধার দিক হলো, এখানে বসার বেশ বড় জায়গা আছে। এই ইফতার বাজারে ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হলে জায়গাগুলোতে বসা যায়। আবার কখনো কখনো এখানে বসে ইফতার করি।
আইসিসিবি পুরান ঢাকা ইফতার বাজারে আসা আফরোজা বেগম বলেন, এখানে খুবই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আর দামও স্বাভাবিক। এখানকার সেবা, ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার, আভিজাত্য বিবেচনা করলে যে দাম নেয় তা কিছুই না। এজন্য আমরা প্রতিবছরই এখান থেকে ইফতার কিনি। প্রথম দিন আসলাম, আবারও আসবো। গত বছরগুলোতে কয়েকদিন পরপর এখানে ইফতার সংগ্রহ করতে আসি।