ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প। ডাক পাওয়া ২৮ জন ফুটবলারের মধ্যে ২৭ জনই বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) টিম ম্যানেজার আমের খানের কাছে রিপোর্ট করেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে কিংস অ্যারেনায় শুরু হবে মাঠের অনুশীলন। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে গোলরক্ষক মিতুল মারমা কয়েকদিন পর ক্যাম্পে যোগ দেবেন।
ভারতের নাম প্রত্যাহারের পর আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ফিফার এই নতুন টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ পেলেও শুরুতে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে জামাল ভূঁইয়ারা।
আসিয়ান কাপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় এক মাস আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি।চলতি বছরের ২২ মে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি। খেলোয়াড়দের ভালোভাবে বুঝে ওঠার আগেই তিনি বাংলাদেশকে উপহার দেন ঐতিহাসিক এক জয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় ৫ জুন তার অধীনেই প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপিয়ান দলকে (সান ম্যারিনোকে ২-১ গোলে) হারানোর স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখার খুব বেশি সুযোগ পাননি ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল লিগও পিছিয়ে যাওয়ায় আগেভাগেই ক্যাম্প শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
টিম হোটেলে সাংবাদিকদের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘আমাদের লিগ এখনো শুরু হয়নি। দলবদল প্রক্রিয়া চলছে, যা ৩ তারিখ পর্যন্ত চলবে। ক্লাবগুলো এখনো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি। তাই কোচের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি আগেভাগেই ক্যাম্প শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ডাকা হয়েছে এবং আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে পুরোদমে অনুশীলন শুরু হবে।’
আপাতত দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়েই শুরু হয়েছে ক্যাম্প। হামজা চৌধুরী বা শমিত শোমের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা প্রাথমিক এই স্কোয়াডে নেই। তবে বড় এই অ্যাসাইনমেন্টে কোচের সব চাহিদা পূরণে প্রস্তুত বাফুফে।
জাতীয় দল কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খেলোয়াড়রা আজ যোগ দিয়েছে। আমরা সবাই কোচের পরিকল্পনার সঙ্গে থাকব। কোচ কীভাবে খেলাতে চান, তার কী কী প্রয়োজন সবকিছুই আমরা পূরণ করার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও জানান, প্রবাসী ফুটবলাররা নিজেদের ব্যস্ততা কমলে পরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন অথবা সরাসরি ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এই সময়ে কোচ তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং নিজের পরিকল্পনা জানাবেন।
ঘরোয়া মৌসুম শেষে লম্বা একটা বিরতির পর মাঠে ফিরছেন ফুটবলাররা। তাই প্রস্তুতির প্রথম সপ্তাহটা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহটা একটু কঠিন হবে কারণ আমরা অনেক দিন ফুটবলের বাইরে ছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে এবং আমাদের খুব সিনসিয়ারলি সবকিছু করতে হবে। কোচও ঠিক এমনই একটা সময় চেয়েছিলেন। সামনে আমাদের দুটি বড় অ্যাসাইনমেন্ট একটি ফিফা টুর্নামেন্ট এবং অন্যটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তিনি (কোচ) চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় পাচ্ছেন, এই সময়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়িয়ে নিতে হবে। এটা বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।’
আসিয়ান কাপের পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টের শিরোপায় চোখ তপুদের। তাই আসিয়ান কাপকে একটি দারুণ প্রস্তুতিমূলক সুযোগ হিসেবে দেখছেন এই ডিফেন্ডার। তপু বলেন, ‘নভেম্বরে আমরা সাফ খেলব, তার আগে এত বড় একটা টুর্নামেন্ট খেলা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি ব্যাপার।’