সার সরবরাহে অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতির অভিযোগ কৃষক-মজুর সংহতির

সার সরবরাহে অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতির অভিযোগ কৃষক-মজুর সংহতির

ভরা বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে দেশে চলমান অব্যবস্থাপনা, আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা ও দুর্নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে সার সরবরাহ ব্যবস্থার জালিয়াতি ও কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।একই সঙ্গে কৃষক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠন এবং সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ভরা বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে চলমান অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্রের অদক্ষতায় তারা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। সারাদেশে আমন ধানের মৌসুমে সার নিয়ে অস্থিরতা ও সংকট চলছে।সংগঠনের তৃণমূল সংগঠকদের পাঠানো তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এর কিছুটা চিত্র উঠে এসেছে। বাস্তবে মাঠের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, আমলাতন্ত্রের দেওয়া ‘কেতাবের গরু আছে, বাস্তবে নেই’ ধরনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয় দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো প্রকৃত সংকট নেই বলে দাবি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত প্রায় ১০ দিন ধরে রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ বোরো ও আমনপ্রধান বিভিন্ন এলাকা থেকে সার সংকটের খবর এলেও কৃষিমন্ত্রী ও সচিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলে আসছেন।

এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের মজুত ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নেতারা বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সার সরবরাহ নীতিমালার সাম্প্রতিক পরিবর্তন, ডিলারদের অসন্তোষ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি।

তাদের দাবি, বেশি দামে সার বিক্রির উদ্দেশ্যে এক এলাকার ডিলার অন্য এলাকায় সার মজুত করছেন। সরকার নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার কালোবাজারে বিক্রির জন্য গোপন মজুত গড়ে তুলছেন এবং পরে খোলাবাজারে বেশি দামে তা বিক্রি করছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচারের অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর চার উপজেলায় চারজন পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট দুই পরিবেশককে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, জেলা পর্যায়ের ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’র সভাপতির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসকেরা জেলা সদরের কার্যালয় থেকে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করছেন। আবার এসব কমিটির সদস্যদের মাঠের তথ্য দিচ্ছেন কৃষি ব্লকের মাঠকর্মীরা। ফলে অপর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশি কার্যক্রমের কারণে এক এলাকার বরাদ্দ অন্য এলাকায় কালোবাজারি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা মনিটরিং কমিটির পক্ষে কঠিন।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি। দাবিগুলো হলো—
১. সার সরবরাহ ব্যবস্থার জালিয়াতি ও কৃষকদের হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে কৃষক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।

২. চলমান অব্যবস্থাপনা, কালোবাজারির সাথে যুক্ত অভিযুক্ত ডিলার ও আমলাতন্ত্রের দায়ী কর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে অবিলম্বে চীন, রাশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. কৃষকদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটতন্ত্র কায়েম করা দুর্নীতিগ্রস্ত ডিলারদের ক্রমান্বয়ে বাতিল করতে হবে। খোলাবাজারে সরাসরি সার বিক্রয় পদ্ধতি ও কিউআর কোড দিয়ে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৫. ক্রমান্বয়ে কৃষককার্ডের মাধ্যমে সারের ভর্তুকি সরাসরি কৃষকদের নগদে পরিশোধ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS