News Headline :
‘নিজের অভিভাবক হারানোর মতো’, নায়করাজকে স্মরণ করে শাকিব

‘নিজের অভিভাবক হারানোর মতো’, নায়করাজকে স্মরণ করে শাকিব

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর নয় বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি।তার মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নায়করাজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, তার স্নেহ ও ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করেছেন শাকিব।

শাকিব খান লেখেন, নায়করাজ রাজ্জাক আঙ্কেলকে হারানোর নয় বছর আজ। তাকে হারানোর শূন্যতা আজও সমানভাবে অনুভব করি।

নায়করাজ শুধু একজন কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন না, চলচ্চিত্রের মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার এক বিশাল আশ্রয়- এমনটাই উল্লেখ করেছেন শাকিব।

তিনি বলেন, বিশেষ করে তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো।স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকদিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি!

নায়করাজকে হারানোর বেদনা নিজের কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত উল্লেখ করে শাকিব আরও লেখেন, তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো খুবই ব্যক্তিগত।

রাজ্জাক শারীরিকভাবে না থাকলেও তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনো পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে বলে জানান শাকিব। তার ভাষায়, তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, নায়করাজ ততদিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।

সবশেষে প্রিয় নায়করাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শাকিব লেখেন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।

বলে রাখা যায়, ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আবদুর রাজ্জাক। চলচ্চিত্রে তিনি নায়করাজ রাজ্জাক নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, বর্তমান বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি।

চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন তিনি।

শুধু অভিনয় নয়, পরবর্তী সময়ে প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন নায়করাজ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান কিংবদন্তি।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে নায়করাজ রাজ্জাককে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৩ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা। এ ছাড়া বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS