সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি শপথ নেন।
এদিন ড. আবদুল মঈন খান ছাড়াও মন্ত্রী পদে শপথ নেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও তাত্ত্বিক রাজনীতিক হিসেবে সুখ্যাতি থাকা ড. আব্দুল মঈন খান ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল মোমেন খান ছিলেন দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সাবেক খাদ্যমন্ত্রী।তার মায়ের নাম খোরশেদা বেগম। মঈন খান পারিবারিকভাবেই রাজনীতির একটি আদর্শ পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন, যা তাকে পরবর্তী জীবনে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. মঈন খানের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। রাজধানীর স্বনামধন্য নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স’ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেন ও সরকারি নানা দায়িত্বশীল পদেও কর্মরত ছিলেন।
বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ড. মঈন খান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। নিজ নির্বাচনী এলাকা নরসিংদী-২ (পলাশ) থেকে তিনি একাধিকবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে) জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্র পরিচালনায়ও তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সালে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে তথ্যমন্ত্রী (২০০১-২০০২) ও পরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী (২০০২-২০০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।