এক সিনেমা থেকেই অভিনেতার আয় ১০ কোটি ডলার!

এক সিনেমা থেকেই অভিনেতার আয় ১০ কোটি ডলার!

স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করে এবার রীতিমতো আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পেতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ অভিনেতা টম হল্যান্ড। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার আয় করবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য র‍্যাপ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হল্যান্ডের পারিশ্রমিক চুক্তি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সিনেমাটির জন্য অভিনেতাকে শুরুতেই ২ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। আগের স্পাইডার-ম্যান সিনেমা ‘নো ওয়েজ হোম’-এর জন্য পাওয়া পারিশ্রমিকের প্রায় দ্বিগুণ এই অংক।

তবে সিনেমাটির অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণে এখানেই থামছে না হল্যান্ডের আয়। বক্স অফিস থেকে পাওয়া সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বোনাস ও লাভের অংশ হিসেবে তিনি আরও ৮ কোটি ডলার বা তারও বেশি পেতে পারেন।সব মিলিয়ে তার আয় ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুক্তির মাত্র তৃতীয় সপ্তাহেই ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে।মূল্যস্ফীতি সমন্বয় না করে সিনেমাটির টিকিট বিক্রির আয় ছাড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলার।

২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁয়া আটটি সিনেমার মধ্যে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম। সবচেয়ে দ্রুত এই মাইলফলক অর্জনের রেকর্ড এখনো ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর দখলে। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি আরও দ্রুত ২০০ কোটি ডলারের ঘরে পৌঁছেছিল।

স্পাইডার-ম্যান হিসেবে টম হল্যান্ডের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির গল্পটিও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৬ সালে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ সিনেমায় প্রথমবার স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেই সময় তার পারিশ্রমিক ছিল বলে জানা যায় মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এরপর ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ (২০১৭)-এর জন্য পান প্রায় ৫ লাখ ডলার। ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯)-এ তার পারিশ্রমিক বেড়ে হয় প্রায় ৪০ লাখ ডলার। আর ২০২১ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়েজ হোম’-এর জন্য পান প্রায় ১ কোটি ডলার।

‘নো ওয়েজ হোম’-এর পর তার আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। এরপর নতুন করে চুক্তি করেই এত বড় পারিশ্রমিক নিশ্চিত করেছেন হল্যান্ড।

টম হল্যান্ডের নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমার এমন সাফল্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (এমসিইউ) এবং সামগ্রিকভাবে সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কিছুটা কমে যাচ্ছিল।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য মার্ভেলস’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল মাত্র ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যেখানে এর প্রযোজনা ব্যয়ই ছিল প্রায় ২৭ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের ‘ম্যাডাম ওয়েব’ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সিনেমাটি আয় করে প্রায় ১০ কোটি ডলার, বিপরীতে এর প্রযোজনা ব্যয় ছিল প্রায় ৮ কোটি ডলার।

২০২৫ সালে মার্ভেলের একাধিক সিনেমার ব্যবসায়িক ব্যর্থতাও আলোচনায় আসে। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ আয় করে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ‘থান্ডারবোল্টস’ ৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’ আয় করে প্রায় ৫২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে টম হল্যান্ড অভিনীত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মাত্র কয়েক সপ্তাহেই ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক পেরিয়ে গেছে।

২০২৬ সালটি টম হল্যান্ডের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যস্ত ও সফল বছর হয়ে উঠেছে। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর পাশাপাশি এ বছর তাকে দেখা গেছে ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘দ্য অডিসি’-তে টেলেমাকাস চরিত্রে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩০ কোটি ডলার আয় করে ‘দ্য অডিসি’ ২০২৬ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হয়েছে।

পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও এ বছর নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন হল্যান্ড। তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও দুই সিনেমার সহশিল্পী জেনডায়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল যেন টম হল্যান্ডের জন্য হয়ে উঠেছে সাফল্য, অর্থ আর ভালোবাসায় মোড়ানো এক স্বপ্নের বছর।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS