News Headline :
আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুলের জন্য এমপিদের ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আগুনে বন্ধ দরজা, জানালা পেরিয়ে তিনতলার কার্নিশে গিয়ে যেভাবে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি বাংলাদেশকে জ্বালানি সহযোগিতার আশ্বাস কাতারের প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ – ডপলার রিসার্চের জরিপ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ব্যালট নিয়ে সংসদ যাবে ইসি – রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদীয় সভায় বারবার কাঁদলেন ফখরুল, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীও জানা গেলো কলকাতায় আগুনে নিহত ৫ বাংলাদেশির পরিচয় নভোএয়ারে চাকরির সুযোগ জেনে নিন ডায়েটের খাবার সুস্বাদু করার কৌশল
আগুনে বন্ধ দরজা, জানালা পেরিয়ে তিনতলার কার্নিশে গিয়ে যেভাবে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

আগুনে বন্ধ দরজা, জানালা পেরিয়ে তিনতলার কার্নিশে গিয়ে যেভাবে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাত। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে হঠাৎ আগুন।ঘরের দরজার বাইরে তখন ধোঁয়া আর চিৎকার। বের হওয়ার পথও যেন বন্ধ।প্রাণ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত জানালা দিয়ে নেমে তিনতলার কার্নিশে আশ্রয় নেন বাংলাদেশি দম্পতি সুমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম।

কার্নিশে দাঁড়িয়ে ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন তারা।কিন্তু নিচ থেকে তাদের দেখা যাচ্ছিল না ঠিকমতো। শেষ পর্যন্ত মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে নিচে আলো ফেলতে থাকেন।সেই আলোই জানান দেয়, ওপরে বিপদে পড়েছেন দুজন।

পরে দমকলকর্মীরা মই দিয়ে তিনতলার কার্নিশ থেকে তাদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন। তবে উদ্ধারের পরও কাটেনি আতঙ্ক। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মনে পড়লে শিউরে উঠছেন সুমাইয়া ও রেজাউল।

সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলেন সুমাইয়া। সঙ্গে ছিলেন স্বামী রেজাউল। দুদিন আগে নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে একটি ঘর ভাড়া নেন তারা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তাদের ঘরের দরজায় জোরে জোরে ধাক্কার শব্দ শুনতে পান সুমাইয়া। তখন ঘুমিয়ে ছিলেন রেজাউল। ধাক্কার শব্দে তারও ঘুম ভেঙে যায়।

সুমাইয়া বলেন, ‘রাত ১টা ৫০ নাগাদ হঠাৎই আমাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। আমি সজাগ ছিলাম। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার স্বামীর। দু’জনে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে।’

চারপাশে ধোঁয়া আর চিৎকারের মধ্যেও মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করেন রেজাউল। স্ত্রী যাতে আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন, সেদিকেও নজর রাখছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ভাবছিলেন কীভাবে আগুনের হাত থেকে বের হওয়া যায়।

দরজা দিয়ে বের হওয়ার পরিস্থিতি না থাকায় জানালা দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রেজাউল। স্ত্রীকে নিয়ে এগিয়ে যান জানালার দিকে। এরপর জানালা খুলে দুজনই নেমে পড়েন তিনতলার কার্নিশে।

সুমাইয়া বলেন, ‘কার্নিশে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’

কিন্তু কার্নিশটি এমন জায়গায় ছিল, যেখান থেকে নিচের রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। আবার রাস্তা থেকে ওপরের দিকে তাকালেও কার্নিশে কেউ দাঁড়িয়ে আছেন কি না, তা সহজে বোঝার উপায় ছিল না।

তাই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে নিচে আলো ফেলতে শুরু করেন তারা। পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সুমাইয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধ ঘণ্টা ওই অবস্থায় আমরা কার্নিশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

প্রায় আধ ঘণ্টা তিনতলার কার্নিশে মৃত্যুভয় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে আসে স্বস্তির মুহূর্ত। দমকলকর্মীরা মই নিয়ে পৌঁছে দুজনকে কার্নিশ থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।

উদ্ধারের পরও সেই রাতের আতঙ্ক কাটছে না সুমাইয়া-রেজাউলের। কীভাবে জানালা দিয়ে বের হলেন, কীভাবে কার্নিশে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে দমকল তাদের উদ্ধার করল—বারবার সেই মুহূর্তগুলোই মনে পড়ছে তাদের।

শুধু সুমাইয়া-রেজাউল নন, ওই ভবনের হোটেলগুলোতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আরও অনেক মানুষ ছিলেন। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ আবার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন।

এ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS