বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে রাজস্ব ও ব্যয়ের দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্পত্তির মূল্যায়ন ও কর আদায় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনৈতিক গবেষক অধ্যাপক পিং ঝাং।
তিনি বলেন, ‘চীন মূলত পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং ভ্যাট এখনো দেশটির সবচেয়ে বড় রাজস্ব উৎস।মোট কর রাজস্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ পরোক্ষ কর থেকে এলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজস্ব কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে চীন তাদের রাজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, যা বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও শিক্ষণীয় হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর পিআরআই কনফারেন্স রুমে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘চীনের কর ব্যবস্থা ও সংস্কার: বাংলাদেশের রাজস্ব সংগ্রহের জন্য শিক্ষণীয় দিক’ শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
একক বক্তৃতায় অধ্যাপক পিং ঝাং চীনের করব্যবস্থা, রাজস্ব কাঠামো ও কর সংস্কারের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৮৪-১৯৮৬ সালের ‘মুনাফা থেকে কর’ এবং ১৯৯৩-১৯৯৪ সালের ‘কর ভাগাভাগি ব্যবস্থা’ সংস্কারের ফলে চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় রাজস্বে অংশ প্রায় ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।এছাড়া জমি ব্যবহারের অধিকার বিক্রির রাজস্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থায়ন শহরগুলোর দ্রুত রূপান্তরে ভূমিকা রেখেছিল।
চীনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বাংলাদেশের জন্য তিনটি প্রধান দিক সুপারিশ করেন।সুপারিশগুলো হলো—সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে রাজস্ব ও ব্যয়ের দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন; শর্তসাপেক্ষ রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থা প্রবর্তন; এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্পত্তির সঠিক মূল্যায়ন।
পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার সঞ্চালিত এ কর্মশালায় নীতিপ্রণেতা, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা অংশ নেন। প্যানেল আলোচনায় সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর, সাবেক সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ড. সুলতান হাফিজ রহমান, কামরান টি. রহমান, আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ এসএস সিদ্দিকী, এনবিআরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনেরা রাজস্ব বিকেন্দ্রীকরণ ও করভিত্তি সম্প্রসারণের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মত প্রকাশ করেন।