ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রেমিক ভাড়া’র বিজ্ঞাপন

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রেমিক ভাড়া’র বিজ্ঞাপন

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে বলা হচ্ছে, ‘আপনার কি বয়ফ্রেন্ড চাই… আমরা ভাড়া দেব। পারিশ্রমিক নির্ভর করবে কাজ এবং সময়ের ওপর।’ এই বিজ্ঞাপনগুলোর নেপথ্যে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার নানা কৌশল লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে দেশটির পুলিশ।

‘আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? আপনি কি কোনো সুদর্শন ছেলের সঙ্গে কফি খেতে বা সিনেমা দেখতে যেতে চান? তাও আবার ৫০ শতাংশ ছাড়ে?’ বিজ্ঞাপনে এমন সব কথাও লেখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনগুলোতে দুটি বিষয় দেখা গেছে– প্রথমত, সময়, অর্থাৎ কতক্ষণের জন্য ভাড়া পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত, ভাড়ার মূল্য।বিজ্ঞাপনগুলিতে প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা মূল্যের উল্লেখ করা হচ্ছে। যেমন– এক ঘণ্টা কফি খাওয়া ও আড্ডার জন্য ৪৯৯ টাকা, সিনেমা দেখার জন্য ১,২৪৯ টাকা, কেনাকাটায় সঙ্গী হিসেবে ১,৪৯৯ টাকা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা বিয়েতে সঙ্গী হিসেবে ১,৯৯৯ টাকা নেওয়া হবে।

এগুলো ছাড়াও ১০ ঘণ্টার একটি পুরো দিনের প্যাকেজের জন্য ৪,৪৯৯ টাকার একটি রেট কার্ড ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে সরাসরি বার্তা পাঠানোর জন্য বলা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে যে ‘ভাড়ার বয়ফ্রেন্ড’ পাঠানোর সময় নারীর বিবরণ গোপন রাখা হবে। খবর বিবিসি বাংলার।

বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে হায়দ্রাবাদ পুলিশ কমিশনার ভিসি সজ্জনার বলেন, এটি সাইবার অপরাধীদের পাতা একটি নতুন ডেটিং ফাঁদ, যা বিশেষ করে তরুণীদের উদ্দেশ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের তদন্তে জানা গেছে, বিজ্ঞাপনে দেখানো ছেলেদের ছবিগুলোর সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। বিজ্ঞাপনে দেখানো ছবিগুলো এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

ভিসি সজ্জনার বলেন, নারীদের বিবরণ পাঠানোর পর তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। বুকিং নিশ্চিত হলে অগ্রিমের নামে ওয়ালেট ট্রান্সফার ও কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়। তারপর তারা অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করে উধাও হয়ে যায়।

ভারতে সাইবার অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই হায়দ্রাবাদ পুলিশ ‘রেন্ট বয়ফ্রেন্ড’ নামে সাইবার অপরাধের আরও একটি নতুন কেলেঙ্কারি শনাক্ত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা কেউই সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়নি।

হায়দ্রাবাদের পুলিশ কমিশনার সজ্জনার বলেন, এই নতুন ধরনের প্রতারণার বিষয়ে যদি আগে থেকেই সতর্ক না হওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারে তখন এটা বোঝা যায় যে, এটা একেবারেই নতুন ধরনের ফাঁদ। সম্প্রতি শুরু হয়েছে। কারা এটি পরিচালনা করছে, এর পেছনে কারা আছে, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি। মনে হচ্ছে, এটি অন্য কোনো রাজ্য থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

সজ্জনার সতর্ক করে বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত ছবি অশ্লীলভাবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিও এক্ষেত্রে রয়েছে।

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, যদি কেউ এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হন বা সন্দেহজনক পোস্ট দেখেন, তাহলে যেন তারা অবিলম্বে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

কাউন্সেলিং মনোবিদ অনিতা আরের পরামর্শ, সন্তানরা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি নিজেদের ব্যবহারে কিছুটা প্রয়োজনীয় বদল আনা।

তিনি বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে কিশোরীরা এ ধরনের বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। এছাড়াও তাদের এই বয়সে নতুন সম্পর্কের প্রয়োজন মনে করে সমবয়সী ছেলেদের দেখলে তাদের প্রতি বিজ্ঞাপন দ্বারা আকৃষ্ট হতে পারে। তাই বাড়িতে তাদের নেতিবাচক কথা বললে হবে না, তাদের বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

অনিতা আরে বলেন, বাইরের লোকজন তাদের নানারকম মিষ্টি ভাষণে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করবে, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS