মার্জিন ঋণ বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বিএসইসি

মার্জিন ঋণ বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের সীমা নির্ধারণ করে বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত মার্জিন বিধিমালায় জীবন বীমা খাত ছাড়া অন্য সব খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে সর্বোচ্চ প্রাইস আর্নিং রেশিও বা পিই ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে।আর জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও বা পিবি ৩।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার মার্জিন বিধিমালার সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে গেজেটটি প্রকাশ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সংশোধিত নতুন বিধিমালায় সব শেয়ার ও সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সহজ অর্থ হলো, বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

জীবন বীমা ছাড়া কোম্পানির শেয়ারে পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে। এক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ ধারাবাহিক চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই নির্ধারণ করতে হবে।

বিএসইসি মুখপাত্র বলেন, জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই নয়, পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। এসব কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রকৃতি ও আর্থিক কাঠামোর কারণে পিইর পরিবর্তে পিবি অনুপাতকে মূল্যায়নের ভিত্তি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দিয়ে ভাগ করে পিবি নির্ধারণ করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি হলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো জীবন বীমা কোম্পানির এনএভি ঋণাত্মক হলে ওই শেয়ারও মার্জিন সুবিধার জন্য অযোগ্য হবে।

মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার সময় কোনো গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ না থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক নিজস্ব নগদ অর্থের পরিবর্তে মার্জিন অর্থায়নের অযোগ্য সিকিউরিটি কিনলে সেই সিকিউরিটির মূল্যকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য গ্রাহকের ইক্যুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।

আবুল কালাম জানান, সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন ঋণদাতা আগাম নোটিশ বা মার্জিন কল দেবে। এরপর বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS