দ্রুত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন

দ্রুত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন

নির্ধারিত তিন মাসের সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার শুরুতে ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ত প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এরপর সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান বক্তব্য রাখেন এবং কোষাধ্যক্ষ সাইদুজ্জামান তুহিন বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আর্চারির অতীত অর্জন ও শৃঙ্খলা তার বক্তব্যে বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়।

কাউন্সিলরদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনায় ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নবগঠিত কমিটির উদ্যোগেই আজকের এই সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। বর্তমান কমিটির তিন মাসের টাইমফ্রেম খুবই সন্নিকটে।আজকের এই সভা থেকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে, প্রয়োজনে আগামীকালই নির্বাচন সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের আর্চারির দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল যাত্রার কথা স্মরণ করেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। তিনি জানান, ২০০২ সালে অ্যাফিলিয়েশন পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আরচ্যারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও এশিয়ান প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত ৪২টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে।

ওয়াইল্ড কার্ড নয়, বরং সরাসরি যোগ্যতার ভিত্তিতে অলিম্পিক এবং যুব অলিম্পিকে বাংলাদেশের কোয়ালিফাই করাকে তিনি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে যুব অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছানোকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ সাফল্য বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে ৭-৮টি বিশ্ব র‍্যাংকিং টুর্নামেন্ট ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে। চপল উল্লেখ করেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ এসব আসরে ধারাবাহিকভাবে পদক জয় করেছে।

দেশের আর্চারির এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৭ সাল থেকে সম্পৃক্ত থাকা সিটি গ্রুপ, গ্রামীণফোন, উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং প্রথম দিন থেকেই আর্চারির পাশে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘কিউট’-কে তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS