বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে ‘ফুটেজ সংকটে’ অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে ‘ফুটেজ সংকটে’ অস্ট্রেলিয়া

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামলাতে গিয়ে ঘাম ছুটে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের। বেশ কিছুটা অচেনা অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।শান্ত-তানজিদ-মিরাজদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ না থাকায় তাদের নিয়ে পর্যাপ্ত ফুটেজও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ছিল না। ফলে ম্যাচের মধ্যেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে ধারণা নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জশ হ্যাজলউড।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার বলেন, বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যাটারের বিপক্ষে তারা নিয়মিত খেলেন না। এ কারণে এই ধরনের কন্ডিশনে তাদের নিয়ে খুব বেশি ভিডিও বিশ্লেষণের সুযোগও ছিল না।

এক প্রশ্নের জবাবে হ্যাজলউড বলেন, ‘কিছু ব্যাটারের বিপক্ষে আমরা নিয়মিত খেলি না। এই ধরনের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে খুব বেশি ফুটেজও আমাদের কাছে নেই।তাই খেলার মাঝেই আমাদের অনেক কিছু বুঝে নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম দিকে রান একটু দ্রুতই এসেছে। আমরা যদি টানা কয়েকটি মেডেন ওভার করতে পারতাম, তাহলে তাদের ওপর চাপ তৈরি করা যেত।’

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয়। বাংলাদেশের ইনিংস ১৩৮ ওভার পর্যন্ত গড়ায়। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণকে দীর্ঘ সময় ধরে সামলান বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

তবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হ্যাজলউড। তিনি নেন ৬ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজকে আউট করে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতিই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ‘ভালো লাগছে, অবশ্যই। তবে এই মুহূর্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ম্যাচ। ভালো একটা ওয়াইড নিক ছিল, কিপারের হাতে গেছে। স্মৃতিতে রাখার মতো একটা উইকেট। তবে সত্যি বলতে, বাইরে বেশ কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। বল নরম হয়ে যাওয়ার পর কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আমার মনে হয়, প্রথম ৮ থেকে ১০ ওভারে একজন বোলারকে সুযোগটা কাজে লাগাতে হয়। এরপর কাজটা বেশ কঠিন।’

বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপক্ষে বোলিংয়ের পাশাপাশি হ্যাজলউডকে মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও, ‘বাংলাদেশের পেসাররা কন্ডিশন অনুযায়ী খুব ভালো বোলিং করেছে। প্রথম দিনের প্রথমার্ধে তারাই উইকেট থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে এবং সেটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। তারা বেশ ভালো ফুল লেংথে বল করেছে। প্রথম দিনে বলও পরের সময়ের তুলনায় একটু বেশি সময় সিম করেছে। সব মিলিয়ে তারা খুব ভালো বোলিং করেছে।’

তৃতীয় দিনের শেষেও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে টিকে আছে মূলত ক্যামেরন গ্রিনের লড়াইয়ে। ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন এই অলরাউন্ডার। এর আগে তাসকিন আহমেদের বলে বেঁচেও যান তিনি। বল তাঁর ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করলেও বেল না পড়ায় জীবন পান গ্রিন।

হ্যাজলউড মনে করেন, ক্রিকেটে এমন ভাগ্যও কখনো কখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে গ্রিনের ব্যাটিংয়ের ইতিবাচক দিকটিও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি, ‘ক্রিকেটে ভাগ্যের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে গ্রিনের খেলার ধরনও ভালো ছিল। সে শুরু থেকেই রান করার চেষ্টা করেছে এবং বোলারদের ওপর চাপ ফিরিয়ে দিতে চেয়েছে। ভাগ্য কখনো কখনো অনেক দূর নিয়ে যায়। তাই এটিই টার্নিং পয়েন্ট কি না, এখনই বলা যায় না।’

চতুর্থ দিনের পরিকল্পনা নিয়েও পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন হ্যাজলউড। তাঁর মতে, এখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নির্দিষ্ট কোনো গতিতে রান করার চেয়ে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলা বেশি জরুরি, ‘দ্রুত রান করাই যে সব সময় সেরা পথ, তা নয়। প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে নিজের শক্তি অনুযায়ী খেলতে হবে। কেউ ট্রাভিস হেডের মতো দ্রুত রান করবে, আবার কেউ মার্নাসের মতো সময় নিয়ে খেলবে। যে পদ্ধতিটা আপনার জন্য কাজ করে, সেটাই খুঁজে নিতে হবে। যে বলটা আপনার নামে লেখা থাকবে, এমন কিছু নেই। তাই যে পদ্ধতিতে স্বস্তি পান, সেভাবেই ব্যাট করা উচিত।’

এখনো অবশ্য হাল ছাড়ছে না অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন হ্যাজলউড। তবে তার জন্য চতুর্থ দিনে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘এখন সেশন ধরে, ঘণ্টা ধরে এগোতে হবে। আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। সেই ঘাটতি পেরিয়ে যেতে পারলে এবং উইকেট হাতে রাখতে পারলে চাপ তৈরি করার সুযোগ থাকবে। উইকেট কেমন আচরণ করবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি কাল অনেকটা সময় ব্যাট করতে পারি, তাহলে শেষ দিনে আবারও ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই জয় এখনো আমাদের ভাবনায় আছে। অবশ্যই।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS