শিশুদের প্রতিভা বিকাশে জাতীয় প্রেস ক্লাবকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বর্ষা উৎসব’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি ও মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রতি শুক্রবার শিশুদের জন্য যেসব আয়োজন করা হচ্ছে, সেটিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা যেতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।প্রেস ক্লাবের অধীনে গান, নাচ, কবিতা, আবৃত্তি ও গল্প বলাসহ শিশুদের প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি একাডেমি বা ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’ গড়ে তোলা যেতে পারে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শিশুদের সার্টিফিকেশন কোর্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।জাতীয় শিশু একাডেমির সঙ্গে এটি অ্যাফিলিয়েটেড করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা সহজ হবে।
শিশুদের প্রতিযোগিতামুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহযোগিতা নিয়ে শিশুদের প্রতিভা তুলে ধরা যেতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব বাড়বে এবং অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আরও উৎসাহিত হবেন।
তিনি বলেন, শুধু সাংবাদিকদের সন্তান নয়, বাইরের শিশুরাও যাতে এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য এনরোলমেন্টের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে সাংবাদিক পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুদেরও এসব কার্যক্রমের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে– শিশু, তরুণ, মধ্যবয়সী কিংবা প্রবীণ কেউ নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা সবাই এই ভূখণ্ডের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ে পরিচিত হয়ে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ– এই লক্ষ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
শিশুদের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের বিনোদন ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের পারফরম্যান্স ও অংশগ্রহণ অভিভাবকদেরও উৎসাহিত করবে।
বিএফইউজের মহাসচিব এবং শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বর্ষা উৎসব’-এর আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব সবসময় সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরাই আগামী দিনে দেশ ও বিশ্ব পরিচালনা করবে। তাই তাদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুরা ভেজা মাটির মতো– তাদের শৈশবে যা শেখানো হয়, তা-ই তাদের মনে গেঁথে যায়। ছবি আঁকা, গান, নাচসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুর কল্পনা, চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
মোবাইল ও ট্যাবের আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রেখে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আমাদের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এতে তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারবে এবং তাদের প্রতিভা দেশ, জাতি ও বিশ্বের কল্যাণে কাজে লাগবে।
অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং এর পরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কাওয়ালি সন্ধ্যা।